গোপন তৎপরতায় লিপ্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম এখন কোথায়?
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে দলটির বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা। সেই তালিকায় আছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনও!
গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ভেতরে তার লুকিয়ে থাকার নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও, একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে- অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সাদ্দাম এখন অবস্থান করছেন ভারতের কলকাতায়। শুধু তাই নয়, সেখানে বসেই দেশের ভেতরে থাকা নেতা-কর্মীদের নিয়ে গোপন তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি।
কলকাতায় নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রামসহ গোপন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের ভেতরে থাকা ছাত্রলীগের আত্মগোপনকারী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। উদ্দেশ্য— নিষিদ্ধ এই সংগঠনটিকে নতুন করে সংগঠিত করে সরকারের বিরুদ্ধে সাইবার স্পেসসহ মাঠ পর্যায়ে অস্থিরতা তৈরি করা।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় বড় সিদ্ধান্ত এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারাদেশে দায়ের হয়েছে অসংখ্য হত্যা মামলা। দেশের আদালতে যখন তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তখন সীমান্ত পেরিয়ে ভিনদেশে বসে তার এই তৎপরতা— সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য নতুন এক শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।
পলাতক এই ছাত্রনেতাকে আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত এবং সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ, তাই চাইলেই আইনি কাঠামোর ভেতর দিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা আইনগতভাবে সবচেয়ে সহজ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি জানান, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকায় দুই দেশ একমত হলেই আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি জানান, শুধু ভারতের সাথেই বাংলাদেশের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিযুক্ত বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছে। পূর্ণাঙ্গ বিচারের মাধ্যমে দেওয়া এই সর্বোচ্চ শাস্তি সাধারণ গ্রেফতারি পরোয়ানার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
প্রসিকিউটর গাজী তামীম আরও বলেন, সরকার কূটনৈতিকভাবে ভারতকে বাধ্য করতে পারলে এসব আসামিকে ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন কিছু নয়। এর আগেও দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের নজির রয়েছে, তাই দুই দেশ একমত হলেই আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমানে এই পলাতকদের আইনের আওতায় আনাই সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ পলাতক এই নেতাদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা। তা না হলে দেশের বাইরের এই গোপন তৎপরতা যেকোনো সময় রূপ নিতে পারে বড় ধরনের নাশকতায়। দেশের বাইরে থাকা এই ফেরারি আসামির অনুপস্থিতিতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে কূটনৈতিক এবং আইনি প্রক্রিয়া কতোটা গতি পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিভি/বিএস/টিটি













মন্তব্য করুন: