• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

‘মণ্ডপে মণ্ডপে পাহারায় থাকবে বিএনপি’

প্রকাশিত: ১১:৩০, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১১:৩০, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
‘মণ্ডপে মণ্ডপে পাহারায় থাকবে বিএনপি’

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহারায় থাকবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঘুমহীন প্রহরীর মতো সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাদের। একই সঙ্গে পূজাকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়া এবং বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রিজভী বলেন, দুর্গাপূজায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন এবং সবার সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে দলের নেতাকর্মীরা কীভাবে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করবেন, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নেতাকর্মীরা ঘুমহীন প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে করণীয় এবং ইতোমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দল ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে দুটি কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে একটি এবং ইমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের পক্ষ থেকে আগেও বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রিজভী আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে এবং গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে একটি মহল নানা ধরনের নীলনকশা করছে। অপপ্রচার, অপকর্ম ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। এ পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদেরও সব সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য দিক, পরবর্তী জাপান সফর, বিরোধী দলগুলোর কর্মকাণ্ড, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং দলীয় পুনর্গঠনের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া ও বাজারে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এ বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। দলের জাতীয় কাউন্সিল কিংবা ছাত্রদলের কমিটি নিয়েও নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা বার্তা নেই।

বৈঠকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ইসমাইল জবিউল্লাহ, আমান উল্লাহ আমান ও ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: