• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কথার মাধ্যমে কাউকে কষ্ট দিলে যে শাস্তির বিধান রয়েছে ইসলামে

প্রকাশিত: ২১:৪৫, ৩১ জুলাই ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কথার মাধ্যমে কাউকে কষ্ট দিলে যে শাস্তির বিধান রয়েছে ইসলামে

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কথার মাধ্যমে অন্যায়ভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম এবং এটি একটি মারাত্মক কবিরা গুনাহ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বিনা অপরাধে মুমিনদের কষ্ট দেওয়াকে স্পষ্ট পাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রকৃত মুসলিমের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অন্যকে মুখ ও হাতের কষ্ট থেকে নিরাপদ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

নিচে কথার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়ার বিধান এবং এর ক্ষতিকর পরিণতিগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা 
স্পষ্ট পাপ: আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, "যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫৮)।

মন্দ নামে ডাকা নিষেধ: কোনো মানুষকে উপহাস করা বা মন্দ নামে ডাকা কুরআনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

হাদিসের বাণী ও আদর্শ
প্রকৃত মুসলিমের বৈশিষ্ট্য: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা এবং হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।" (মিশকাতুল মাসাবীহ - হাদীস নং ৩৩)।

জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা: কথার দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) জান্নাতি নন বলে হুঁশিয়ার করেছেন

কথার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়ার বিভিন্ন রূপইসলামে যে সমস্ত বাচনিক আচরণকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

গালিগালাজ করা: কাউকে কটূক্তি বা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা।গীবত বা পরনিন্দা: কারো অনুপস্থিতিতে তার এমন সমালোচনা করা যা সে শুনলে কষ্ট পাবে।

চোগলখুরী: একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগিয়ে বিবাদ তৈরি করা।

খোঁটা দেওয়া: কাউকে সাহায্য বা দয়া করার পর তা মনে করিয়ে দিয়ে লজ্জিত করা।

অহংকার প্রকাশ: নিজের বংশ বা যোগ্যতা নিয়ে অহংকার করে অন্যকে ছোট করা।

এর ভয়াবহ পরিণতি
বান্দার হক (হককুল ইবাদ): এটি মানুষের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত। আল্লাহ তাআলা এই গুনাহ ততক্ষণ ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজে ক্ষমা করেন।নেক 

আমল ধ্বংস: কিয়ামতের দিন অন্যায়ভাবে মানুষকে কথার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়ার কারণে নিজের পুণ্য বা নেক আমল ভুক্তভোগীকে দিয়ে দিতে হবে, যার ফলে মানুষটি দেউলিয়া হয়ে জাহান্নামে যাবে।

তাই একজন মুসলিমের উচিত সর্বদা নিজের জিহ্বা বা কথাবার্তা সংযত রাখা এবং ভুলবশত কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেললে দুনিয়াতেই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: