• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্তানের পাপের কারণে মা-বাবাকে কবরে শাস্তি পেতে হবে?

প্রকাশিত: ২১:০৮, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সন্তানের পাপের কারণে মা-বাবাকে কবরে শাস্তি পেতে হবে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নির্মিত ছবি

সন্তানের প্রথম বিদ্যালয় মা-বাবা। সন্তানের ভালো-মন্দের, নীতি-নৈতিকতার শিক্ষক তারা। মা-বাবার চোখেই সন্তান পৃথিবীকে দেখতে শেখে। সন্তানের মন-মনন গঠনে মা-বাবার ভূমিকা সব থেকে বেশি। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক সন্তানই ইসলামী ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে থাকে। অতঃপর তার মাতা-পিতা তাকে ইহুদি, নাসারা অথবা অগ্নিপূজক বানিয়ে ফেলে... (বুখারি, হাদিস, ১৩৫৮, মুসলিম, হাদিস, ২৬৫৮, আহমাদ, হাদিস, ৭১৮১)

ভালো-মন্দ, কোন কাজে আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা- শিশুরা তা বুঝতে অক্ষম। তাই মা-বাবাকে শৈশব থেকেই তাদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে, তাদের মনে শৈশব থেকেই গুনাহ-পাপাচারের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে। সন্তানকে কখনো স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাপাচারের প্রতি উৎসাহিত করা যাবে না। কারণ, পৃথিবীতে কোনো মা-বাবা সন্তানকে ইসলামে নিষিদ্ধ কাজের বিষয়ে নিষেধ না করলে এবং এর ক্ষতির দিক না বুঝালে তাদেরকে পরকালে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। কারণ, তারা সন্তানের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করেনি।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا

হে ইমানদারগণ, তোমারা তোমাদের নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গ (স্ত্রী-সন্তানদেরকে) জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। (সূরা তারহীম, আয়াত, ৬)

সন্তানের পাপাচার ও অন্যায়ের দায়ভার
কোরআনের ভাষ্যমতে মা-বাবা সন্তানদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য পদক্ষেপ না নিলে সন্তানের পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্মের দায়ভার তাদেরও বহন করতে হবে। এমনকি তারা মারা যাওয়ার পরও সন্তানের গুনাহের একটা অংশ তাদের আমলনামায় জমা হতে থাকবে। 

এক হাদিসে জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ ভালো কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে সে তার নিজের সওয়াবও পাবে এবং তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, তবে তাদের সওয়াব থেকে একটুও কমানো হবে না। আবার কেউ মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে তার ওপর নিজের গুনাহ বর্তাবে উপরন্তু তার অনুসারীদের সমপরিমাণ গুনাহের অংশীদারও হবে, কিন্তু তাতে অনুসরণকারীদের গুনাহর পরিমাণ একটুও কমানো হবে না। (মুসলিম, ইবনে মাজাহ, হাদিস, ২০৩)

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লা বলেন, মা-বাবা যদি সন্তানকে সঠিক ইসলামি শিক্ষা দেন, তাদের পাপাচার ও গোনাহ থেকে বিরত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন এবং পৃথিবীতে কখনো সন্তানকে পাপাচারের প্রতি উৎসাহ কিংবা তার কোনো মন্দ কাজে সমর্থন না দিয়ে থাকেন; এমন অবস্থার পরও যদি সন্তান পাপাচারে লিপ্ত হয়, তাহলে তার এমন কাজের জন্য মা-বাবাকে দুনিয়ার জমিনে অথবা কবরে কোনো শাস্তি ভোগ করতে হবে না।

সন্তান যদি মা-বাবার দেখানো পথ অনুযায়ী নেক আমল করে তাহলে মা-বাবার কবরে এর সওয়াব পৌঁছাবে। এ বিষয়ে হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল বন্ধ হয় না— ১. সদকায়ে জারিয়া। ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। ৩. এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম : ৪১১৫)

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: