• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, দুনিয়া ও আখিরাতে যে ভয়ানক শাস্তি

প্রকাশিত: ২৩:২৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, দুনিয়া ও আখিরাতে যে ভয়ানক শাস্তি

প্রতীকী ছবি

ইসলামে মা-বাবার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। আল্লাহর ইবাদতের পরই মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ ও তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অবাধ্যতা কিংবা কষ্ট দেওয়াকে গুরুতর গুনাহ হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ এরপর তাদের সামনে বিরক্তি প্রকাশ করতেও নিষেধ করা হয়েছে। এমনকি ‘উফ’ শব্দটিও উচ্চারণ না করার নির্দেশ রয়েছে। (সুরা আল-ইসরা, আয়াত ২৩)

পরের আয়াতে মা-বাবার প্রতি বিনয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাদের জন্য দোয়া করতে বলা হয়েছে—‘হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।’

মনে রাখবেন, ইসলামে শিরকের পরেই সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا

তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩) এই আয়াতে আল্লাহ নিজের ইবাদতের পরেই মা-বাবার হকের কথা বলেছেন।

তাদেরকে উফ শব্দটিও বলা নিষেধ। আল্লাহ বলেন, তাদের (মা-বাবার) সঙ্গে ‘উফ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩) যেখানে ‘উফ’ বলা হারাম, সেখানে মাকে গায়ে হাত তোলা কত বড় জঘন্য কাজ, তা চিন্তার বাইরে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

ثَلَاثَةٌ قَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْجَنَّةَ: مُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَالْعَاقُّ، وَالدَّيُّوثُ

তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেন; নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি, মা-বাবার অবাধ্য সন্তান এবং দাইউস। (মুসনাদে আহমাদ: ৫৩৭২)।

অধিকাংশ গুনাহের শাস্তি আল্লাহ কিয়ামতের জন্য তুলে রাখেন, কিন্তু মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْبَغْىِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ.

আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আখিরাতে শাস্তি সংরক্ষিত রাখার সাথে সাথে দুনিয়াতেও আল্লাহ তাআলা কর্তৃক শীঘ্রই শাস্তি প্রদানের জন্য ব্যভিচার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো আর কোনো গুনাহ নাই। (জামে' তিরমিযী, হাদীস নং- ২৫১১)

অন্য একটি হাদিসে এসেছে, মা-বাবার অবাধ্য সন্তান জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, যদিও সেই সুঘ্রাণ হাজার বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার মা-বাবা অথবা তাদের একজনকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল, অথচ তাদের সেবা করে জান্নাত অর্জন করতে পারল না, সে বড়ই বঞ্চিত। (সহিহ মুসলিম)

তাই মা-বাবার সঙ্গে রূঢ় আচরণ, অপমান করা, গালমন্দ করা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি। তাদের জীবিত অবস্থায় সম্মান ও সেবা করা যেমন সন্তানের দায়িত্ব, তেমনি তাদের জন্য দোয়া করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত