• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ইস্যুতে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাসস

প্রকাশিত: ১৯:৫৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ইস্যুতে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে সারা দেশে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এবার দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোনো পূজামণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা ফ্রন্ট, কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটিসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অ্যালার্ট বা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশেই দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এবার সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গতবারের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বেড়েছে। এর আগের বছর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি এবং তার আগের বছরগুলোতে ছিল প্রায় ২৮ হাজার।

‘জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ওপর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে’, বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি তিন দিন করা হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার যুক্ত হওয়ায় মোট পাঁচ দিনের ছুটি হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্গাপূজার সময় নজরদারি জোরদার করতে সরকারি সংস্থাগুলো একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবে। এর আগে নির্বাচনের সময় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এই অ্যাপ ব্যবহার করেছিল বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অ্যাপটির মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য দ্রুত জানানো সম্ভব হবে। এতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে। এ পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তর, বিভাগীয় ও জেলা পুলিশ পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেল চালু থাকবে।

পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মণ্ডপ আয়োজকদের সার্বক্ষণিক জেনারেটর প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেনারেটর বিকল হলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রিচার্জেবল লাইট রাখতেও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সিলেট, মানিকগঞ্জ ও দিনাজপুরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এসব ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য অপরাধ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজ, সশস্ত্র অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা হালনাগাদ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধী হিসেবেই গণ্য করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানান তিনি।

রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া মাটিকাটা ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় রাতে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশের হস্তক্ষেপের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, মিথ্যা অভিযোগ প্রতিরোধে আনুষ্ঠানিক মামলা করার আগে আইনগতভাবে প্রাথমিক তদন্ত বা অনুসন্ধান করা জরুরি।

মিরপুরে হকার ও পুলিশের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে প্রাথমিক সমন্বয়ের অভাবের কারণে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনায় সরকারি তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাড্ডা ও মানিকদিতে স্টুডিওতে হামলার ঘটনার তদন্ত চলছে। তাঁর ভাষ্য, অপরাধী অপরাধীই; কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করছেন, যা ঠিক নয়।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত