• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে অবস্থায় মিথ্যা বলা জায়েজ

প্রকাশিত: ২১:৩৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
যে অবস্থায় মিথ্যা বলা জায়েজ

মিথ্যা বলা ইসলামে নিন্দনীয় ও গোনাহের কাজ। তবে সব পরিস্থিতির বিধান এক নয়। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধের কৌশল কিংবা স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা ও সম্পর্ক বজায় রাখার মতো উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছে শরিয়ত। এসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা ও শর্ত মেনে মিথ্যা বললে গোনাহ হয় না। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থে অন্যের অধিকার নষ্ট করা বা প্রতারণা করার জন্য এ অনুমতি প্রযোজ্য নয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন রাজধানীর জামিয়া ইমাম বোখারির (উত্তরা) মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি। ইসলামিক মাসআলা-মাসাইল সংক্রান্ত ওয়েব পোর্টাল মুসলিম বাংলায় এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান তিনি।

তিন অবস্থায় মিথ্যা বলা জায়েজ
হজরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন স্থান ছাড়া অন্য কোথাও মিথ্যা বলা জায়েজ নয়। এই তিনটি স্থান হলো, স্ত্রীর সাথে ভালবাসার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে, যুদ্ধের ময়দানে কাফিরের সাথে যুদ্ধ বিষয়ে এবং দু-ভাইয়ের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করতে।’ (তিরমিজি: ১৯৩৯, আবু দাউদ: ৪৯২১)

উম্মে কুলছুম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুজনের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের মীমাংসার স্বার্থে মিথ্যা বলে, সে মিথ্যুক নয়। সে একজনের নিকট এসে উত্তম উত্তম জিনিস বলে এবং অন্যের নিকট গিয়ে উত্তম জিনিস পৌঁছায়। ইবনে শিহাব যুহরী (রাহ.) বলেন, মানুষের মিথ্যা কথা বলার ব্যাপারে তিন ক্ষেত্রে রুখসত রয়েছে। সেগুলো হলো, যুদ্ধের সময়ে, দুজনের মধ্যে মীমাংসা করতে এবং স্বামী-স্ত্রী পরস্পর ভালোবাসা-মহব্বতকে বাড়ানোর ক্ষেত্রে। (সহিহ মুসলিম: ২০৫৬)

ইমাম নববী রাহ বলেন, স্বামী-স্ত্রী পরস্পর মিথ্যা বলা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ভালোবাসা প্রকাশের মধ্যে এবং ওই সমস্ত প্রতিজ্ঞার ক্ষেত্রে, যা পূর্ণ করা অত্যাবশ্যকীয় হয় না। তবে মিথ্যা বলার মাধ্যমে কাউকে ধোঁকা দেওয়া অথবা কারো মাল ছিনিয়ে নেওয়া সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। (শরহে মুসলিম-নববী-১৬/১৪৮)

কিছু সংখ্যক উলামায়ে কেরাম মিথ্যা বলাকে হাদিসে বর্ণিত তিনটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। কিন্ত বিদগ্ধ গবেষক উলামায়ে কেরাম ওই সমস্ত বিষয়ের মধ্যেও অনুমিত প্রদান করেছেন যেথায় অন্যের ক্ষতি ব্যতীত নিজের মঙ্গল নিহিত রয়েছে।

আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি (রহ.) বলেন, ‘প্রত্যেক ওই ভালো উদ্দেশ্য যে পর্যন্ত মিথ্যার আশ্রয় ব্যতীত পৌঁছা প্রায় অসম্ভব, সেখানে মিথ্যা বলা বৈধ। মাকসাদ (উদ্দেশ্য) মুবাহ হলে, মিথ্যা বলা মুবাহ। মাকসাদ ওয়াজিব হলে মিথ্যা বলা ওয়াজিব।’

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম (রহ.) বলেন, ‘একমাত্র মিথ্যার মাধ্যমে হক (অধিকার রক্ষা) পর্যন্ত পৌঁছা নির্দিষ্ট হলে নিজের ওপর বা অন্যের ওপর মিথ্যা বলা জায়েজ, যখন এতে অন্যের কোনো প্রকার ক্ষতি হয় না।’ (যাদুল মাআদ: ২/১৪৫)

ইমাম বাগাবি (রহ.) লিখেন, ‘আবু সুলাইমান খাত্তাবি (রহ.) বলেছেন, কিছু বিষয় এমন রয়েছে যেখানে অনেক সময় ক্ষতি দূরকরণার্থে ও সুষ্ঠু সমাধান তলব করতে মানুষ কিছু বাড়িয়ে ও সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণে কথা বলতে বাধ্য হয়। এমন পরিস্থিতিতে ইসলাহের আশা কিছু বিষয়ে সামান্য বেশকম করে মিথ্যা বলা জায়েজ আছে (অর্থাৎ গোনাহ হবে না)।’

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, জীবন বাঁচানোর মতো পরিস্থিতিতে মিথ্যা বলা জায়েজ। বড় ক্ষতি থেকে বাঁচতে মিথ্যা বলা যেতে পারে। তবে ছোট ক্ষতির মুখে মিথ্যা বলা যাবে না। 

মিথ্যা বলার অনুমতির শর্ত
ইমাম নববী (রহ.) বলেন, প্রত্যেক ও প্রশংসনীয় মাকসাদ (উদ্দেশ্য), যাতে মিথ্যা ব্যতীত পৌঁছা সম্ভব, সেখানে মিথ্যা বলা হারাম। কিন্তু যদি তাতে মিথ্যা ব্যতীত পৌঁছা সম্ভব না হয়, তাহলে সেখানে মিথ্যা বলা জায়েজ। যদি উক্ত মাকসাদ অর্জন করা মুবাহ হয়, তাহলে মিথ্যা বলে উক্ত মাকসাদ অর্জন করা মুবাহ। আর যদি মাকসাদ অর্জন করা ওয়াজিব হয়, তাহলে মিথ্যা বলে তা অর্জন করা ওয়াজিব। (রিয়াযুস সালেহিন: ২৫৯)

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত