• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মাছের জবান কি আসলেই কেড়ে নিয়েছিলেন আল্লাহ?

প্রকাশিত: ১৪:৩৩, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মাছের জবান কি আসলেই কেড়ে নিয়েছিলেন আল্লাহ?

প্রতিকী (এআই)

মাছের জবান কেড়ে নেওয়ার রহস্য নিয়ে প্রচলিত আছে এক অদ্ভুত কাহিনি। কথিত আছে, একসময় মাছও কথা বলতে পারত। কিন্তু এক ঘটনার পর হারিয়ে যায় তাদের সেই ক্ষমতা। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া এই কাহিনি ঘিরে রয়েছে নানা কৌতূহল। তবে প্রচলিত বর্ণনার বাইরে মাছ খাওয়ার ইসলামী বিধানও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। জবাই ছাড়াই মাছ খাওয়ার বৈধতা থেকে শুরু করে মাছের জবান কেড়ে নেওয়ার কাহিনির সত্যতা, সবকিছু জানতে প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য সূত্রের অনুসন্ধান।

প্রচলিত আছে এক ব্যক্তি হজরত আলী (রা.)-এর কাছে প্রশ্ন করলেন, ‘হে আলী! পৃথিবীর অন্য প্রাণীদের জবান আছে, কিন্তু মাছের জবান নেই কেন? আর মাছ কেন পানিতে বসবাস করে?’ জবাবে তিনি বলেন, একসময় মাছেরও জবান ছিল এবং তারা কথা বলতে পারত। কিন্তু পরবর্তী একটি ঘটনার কারণে তাদের জবান ও স্থলে চলাচলের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়।

বর্ণনা অনুযায়ী, ইবলিস যখন হজরত আদম (আ.)-কে সিজদা করতে অস্বীকার করল এবং আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হলো, তখন সে মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টির বিরুদ্ধে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করে। কথিত আছে, ইবলিস প্রথমে মাছকে কুমন্ত্রণা দেয়। সে মাছকে সতর্ক করে বলে, মানুষ পৃথিবীতে এসে তোমাদের ওপর জুলুম করবে। তোমাদের ধরে জীবিত অবস্থায় কেটে খাবে।

মাছেরা ইবলিসের এই কথা বিশ্বাস করে সমুদ্রের অন্যান্য প্রাণীদের কাছে তা প্রচার করতে শুরু করে। তারা মানুষের বিরুদ্ধে অন্য প্রাণীদের একত্রিত করার চেষ্টা করে। এরপর আল্লাহ তাদের কথা বলার ক্ষমতা কেড়ে নেন এবং স্থলে চলাচলের ক্ষমতাও বন্ধ করে দেন, এমনটাই ওই প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়েছে। সেই থেকে মাছ পানিতে বসবাস করে এবং কথা বলতে পারে না, এমন একটি কাহিনী লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে।

মাছের ব্যাপারে ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত বিধান রয়েছে। অন্য অনেক হালাল প্রাণী খাওয়ার জন্য শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা প্রয়োজন হলেও মাছের ক্ষেত্রে জবাইয়ের শর্ত নেই। মাছ মারা গেলেও তা খাওয়া বৈধ।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে এসেছে, সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সমুদ্রের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল। [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৮৩; জামে তিরমিজি, হাদিস: ৬৯] অর্থাৎ মাছ খাওয়ার জন্য জবাই করা আবশ্যক নয়। জীবিত মাছ ধরা হলে তা খাওয়া বৈধ এবং মারা যাওয়া মাছও শরিয়তসম্মতভাবে খাওয়া যায়। এ কারণেই মাছ মুসলমানদের জন্য হালাল সামুদ্রিক খাদ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

তবে মাছের জবান কেড়ে নেওয়ার যে কাহিনীটি প্রচলিত আছে, সেটি  কোরআন বা সহিহ হাদিস  দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাই এটিকে ইসলামের নিশ্চিত ইতিহাস হিসেবে বর্ণনা কিংবা প্রচার করা ঠিক হবে না।

ইসলামের শিক্ষা হলো, যে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল রয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে বলা; আর যে বিষয় প্রমাণিত নয়, সেটিকে প্রমাণিত দাবি না করা।
প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টি আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন। মাছের জীবন, পানিতে তার চলাফেরা এবং মানুষের জন্য তার খাদ্য হিসেবে নির্ধারিত হওয়া, সবকিছুই আমাদের জন্য চিন্তা ও উপলব্ধির বিষয়। তাই প্রচলিত গল্প শুনে বিস্মিত হওয়ার পাশাপাশি, ইসলামের কোনো কথা বলার আগে তার সূত্র ও সত্যতাও যাচাই করা জরুরি।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন: