জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লার মুরাদনগরের দুই শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের গাভী উপহার দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর মুন্সেফবাড়ি কার্যালয়ের সামনে দুই পরিবারের সদস্যদের কাছে অস্ট্রেলিয়ান প্রজাতির দুটি গাভী বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সেলিম কাজীর ছেলে নাজমুল কাজী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ১৮ জুলাই ঢাকার কাজলা এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। একই উপজেলার ফুলঘর গ্রামের মনির মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
অনুষ্ঠানে শহীদ নাজমুল কাজীর বাবা সেলিম কাজী এবং শহীদ আবুল হোসেনের স্ত্রী লাকি আক্তারের কাছে গাভী দুটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে পিকআপে করে গাভী দুটি মুরাদনগরে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দুই পরিবারকেই গাভী লালন-পালনের জন্য পৃথক দুটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
গাভী উপহার দেওয়ার পর মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অংশীজন। জুলাইকে বিএনপি ধারণ করে, লালন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে জুলাই পরিবারগুলোর পাশে থাকা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মুরাদনগরের এই দুটি শহীদ পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমি শহীদ আবুল হোসেনের স্ত্রীকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা চাকরি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দুটি দুধের গাভী দেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর থেকেই আমি তাদের বাড়িতে আমার কর্মীদের পাঠাই। গাভী রাখার জন্য ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করি এবং আজ দুটি অস্ট্রেলিয়ান প্রজাতির গাভী তাদের বুঝিয়ে দিলাম। গাভী দুটি মুরাদনগরের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি।’
মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের অসচ্ছল শহীদ পরিবারগুলোকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলব। আমি আমার সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।’
শহীদ নাজমুল কাজীর বাবা সেলিম কাজী বলেন, ‘আমি কুমিল্লা সদরের এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি জুলাই শহীদ পরিবারের কথা মনে রেখেছেন।’
শহীদ আবুল হোসেনের স্ত্রী লাকি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে মারা যান। লাশটাও আমরা আনতে পারিনি। এ কারণে একজনের পরামর্শে মনিরুল হক চৌধুরী এমপি মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি নিজ উদ্যোগে আমাদের জন্য গাভী এবং গাভী লালন-পালনের জন্য ঘরও নির্মাণ করে দিয়েছেন। এ জন্য মাননীয় এমপির প্রতি আমাদের দোয়া ও কৃতজ্ঞতা রইল। আল্লাহ তাকে নেক হায়াত দান করুন। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: