• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধার দুই ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, পাশে ৫০ মুক্তিযোদ্ধা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:১৬, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৫:১৬, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মুক্তিযোদ্ধার দুই ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, পাশে ৫০ মুক্তিযোদ্ধা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীনের দুই ছেলেকে আসামি করার ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার অর্ধশতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে অভিযানে একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে।

রবিবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীন, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মফিজ উদ্দীন বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বাড়ির সামনের আমবাগানে জ্বালানি কাঠ ও খড় রাখার একটি ঘরে রাজশাহী থেকে আসা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি-৫-এর একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় ওই ঘর থেকে ৬ কেজি ৭৫১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের দাবি করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর ছোট ছেলে মেহেদী হাসানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আটক করা হয়। পরে ওই ঘটনায় দায়ের করা মাদক মামলায় তাঁর মেজো ছেলে আল মামুনকেও আসামি করা হয়েছে।

মফিজ উদ্দীনের দাবি, ঘটনার সময় তাঁর মেজো ছেলে আল মামুন রাজশাহীতে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। তাঁর দুই ছেলে কিংবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সঙ্গে ওই মাদক উদ্ধারের ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয়  সোর্সের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এসআরবি সদস্যদের ব্যবহার করে তাঁর দুই ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এর ফলে তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মফিজ উদ্দীন বলেন, তাঁর দুই ছেলে মাদকের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং তাঁর দুই ছেলেকে হয়রানি থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ইউনিট কমান্ডার ও দুলভপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশীদ সনু বলেন, মাদক দিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ফাঁসানো হয়েছে। উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীনের পরিবারের পাশে রয়েছি। যারা মাদক দিয়ে ফাঁসিয়েছে  আমরা তাঁদের বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বজলুর রশীদ সনু আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং যারা প্রকৃতভাবে দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মফিজ উদ্দীনের দুই ছেলের মধ্যে আল মামুন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অপর ছেলে মেহেদী হাসান স্বাস্থ্য বিভাগে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা বালাদুল, সাত্তার, সেরাজুল, আনিসুর, হান্নানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মফিজ উদ্দীনের স্ত্রী শেফালী বেগম, মেয়ে রিনা খাতুনসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে এসআরবি-৫-এর কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এসআরবির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। 

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: