• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

‘তামাক নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ’

প্রকাশিত: ২০:৩৭, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
‘তামাক নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ’

তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির লক্ষ্যে তামাক কোম্পানিগুলো আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের দায়ে এসব কোম্পানিকে শাস্তির আওতায় আনা হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সভাকক্ষে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের সমন্বয় ও সম্পৃক্তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আলোচনা করেন জনস্বাস্থ্য নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের টেকনিক্যাল অফিসার আমিনুল ইসলাম সুজন, সাংস্কৃতিক উন্নয়নকর্মী হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান।

কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার সামিউল হাসান সজীব। সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির মিডিয়া অফিসার নাজমুন নাহার নিপা।

প্রবন্ধে সামিউল হাসান সজীব বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগ্রাসীভাবে হস্তক্ষেপ করছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) ৫.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ শনাক্ত করে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচারণা জোরদার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, টাস্কফোর্স কমিটির সভায় তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তামাক কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, দেশের বড় একটি অংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যাদের বেশির ভাগই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কার্যক্রমের তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এসব মাধ্যমে সঠিক ও তথ্যনির্ভর তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।

হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে তামাকবিরোধী কার্যক্রমের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে একই গণমাধ্যমের বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ফলে প্রচলিত গণমাধ্যমের পাশাপাশি নিউ মিডিয়া ও পডকাস্টের ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্যোগের প্রচার এবং তা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট, বিষয়ভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর প্রেস রিলিজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে গণমাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রচার বাড়াতে হবে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: