মহালয়ায় বিশ্বশান্তি ও মানুষের মঙ্গল কামনা ভারতীয় হাইকমিশনারের
ছবি: সংগৃহীত
শঙ্খধ্বনি, চণ্ডীপাঠ আর দেবীর আগমনী সুরে মুখর রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবীপক্ষ, শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা। ভোর থেকেই মন্দিরে চলছে নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। মহালয়ার এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। দেবী দুর্গার কাছে বিশ্বশান্তি, মানুষের মঙ্গল এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করেন তিনি।
ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শুরু হয় মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা। চণ্ডীপাঠ, শঙ্খধ্বনি আর ধর্মীয় আবহে দেবীপক্ষকে বরণ করে নেন ভক্তরা। মহালয়া মানেই দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে শুরু হয় দেবীপক্ষ। একই সঙ্গে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করেন অনেকে। ধর্মীয় বিশ্বাসে, এই দিন শুভশক্তির জাগরণ আর অশুভ শক্তির বিনাশের প্রত্যাশা নিয়ে দেবীকে আহ্বান করেন ভক্তরা।
মহালয়ায় বিশ্বশান্তি, মানুষের মঙ্গল এবং শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য প্রার্থনা করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। মহিষাসুর বধের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, শুধু বাহ্যিক অশুভ শক্তি নয়, মানুষের মনের ভেতরে থাকা নেতিবাচক চিন্তা ও অসুরসুলভ মানসিকতারও বিনাশ হওয়া প্রয়োজন।
দেবী দুর্গার আরাধনা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। মহালয়াকে ঘিরে ভক্তদের মনে যেমন জেগে ওঠে উৎসবের আনন্দ, তেমনি দেবীর কাছে থাকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সবার মঙ্গল কামনা।
উৎসাহ, আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এবারের দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
মহালয়ার ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে পুরোহিতও ব্যাখ্যা করেন দেবীপক্ষের সূচনা, চণ্ডীপাঠ ও তর্পণের গুরুত্ব।
পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয় অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। সেই বিশ্বাস থেকেই মহালয়ায় দেবীর কাছে প্রার্থনা মানুষের মন থেকে দূর হোক হিংসা, বিদ্বেষ ও নেতিবাচকতা; পৃথিবী হয়ে উঠুক শান্তিময়।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: