১০ বছর পর শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশের ফাইনাল
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল দীর্ঘ ১০ বছর পর টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজিত হয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে অবনতি ঘটেছে বাংলাদেশের।
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে পরাজিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় প্রোটিয়ারা। ২০১৬ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথম টেস্ট র্যাংকিংয়ের এক নম্বরে উঠল তারা। জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন জশ ইংলিস।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সিমন হারমার মাত্র ১৬ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। এ ছাড়া কাগিসো রাবাদা ৩ উইকেট লাভ করেন। ম্যাচের শেষ দিনের শুরুতেই রাবাদা জোড়া আঘাত হানেন এবং টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তার লেগেছে ১৩ হাজার ৮০৮ বল, যা ভেঙে দিয়েছে ডেল স্টেইনের আগের রেকর্ড।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল তাদের ব্যাটিংশৈলী। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা ৩২৯ রান তোলার পর অস্ট্রেলিয়া ৪২৯ রান করে ১০০ রানের লিড নেয়। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে রায়ান রিকেলটন (১০১) ও উইয়ান মুল্ডারের (১১৫) সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৮৭ রান সংগ্রহ করে, যা অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয়। সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ৩১ রানে জিতেছিল। শেষ টেস্টের জয়ে প্রোটিয়ারা কেবল সিরিজই জেতেনি, সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষ আসনও পুনরুদ্ধার করেছে।
এদিকে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ, যা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তাদের টানা তৃতীয় টেস্ট পরাজয়। এই হারের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের সুবাদে বাংলাদেশ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছিল।
তবে মিরপুরে হারের পর তাদের অবস্থান চার থেকে নেমে পাঁচে চলে গেছে। বাংলাদেশের পয়েন্টের শতাংশ ৫৫.৫৬ থেকে কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৪৭.৬২ শতাংশে। ফলে তারা ভারতের (৫১.৫২) পেছনে পড়ে গেছে। ঘরের মাঠে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট পরাজয়।
এই হারে বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সমীকরণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্য পূরণে তাদের সামনে বেশ কিছু কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী ৫ নভেম্বর সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের সামনে চারে ওঠার সুযোগ থাকবে।
এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে ১৫ ও ২৩ নভেম্বর জোহানেসবার্গ ও সেঞ্চুরিয়ানে দুটি টেস্ট খেলবে দল। আর চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রের শেষ দুটি ম্যাচ আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে বাংলাদেশের এই পাঁচ ম্যাচের মধ্যে অন্তত চারটিতে জয় এবং একটি ম্যাচ ড্র করা বাধ্যতামূলক।
বিভি/এসকে/পিএইচ













মন্তব্য করুন: