পলাতক জীবন পেরিয়ে আমের আচারে শহিদ মিয়ার সফলতার গল্প
একসময় পরিচয় ছিল ফেরারি আসামি। তিনিই এখন জিভে জল আনা আচারের কারিগর। রাজনৈতিক মামলায় দিনের পর দিন কেটেছে পলাতক অবস্থায়, কখনো জেল আবার কখনো আত্মগোপনে। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে আজ তিনি সফল উদ্যোক্তা। আমের আচারকে পুঁজি করে বদলে দিয়েছেন জীবনের গল্প।
বলছিলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল হক হায়দারী শহিদ মিয়ার কথা। রাজনীতির পাশাপাশি ভিন্ন কিছু করার ভাবনা থেকেই ২০১৫ সালে ছোট পরিসরে শুরু করেন আমের আচার তৈরির কাজ।
আমের মৌসুমে কৃষকরা যখন ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন, তখন ফলটিকে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে চাহিদা ও উৎপাদন। গড়ে ওঠে ‘চাঁপাই ম্যাংগো আচার কর্নার’। এখন দুটি শোরুমের পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে তাঁর পণ্য।

এখন আমের পাশাপাশি রসুন, তেঁতুল, বড়ই, মরিচ, খেজুর, চালতা ও কিসমিসসহ নানা ধরনের আচার তৈরি হচ্ছে এখানে। রয়েছে আমসত্ত্বও। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে অনেকের কর্মসংস্থানও। গুণগত মান নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে পণ্য রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে এই উদ্যোক্তার।
আমকেন্দ্রিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
একসময় পলাতক জীবন কাটানো শহিদ মিয়া আজ অন্যের কর্মসংস্থানের ঠিকানা। প্রতিকূলতার পথ পেরিয়ে তার এই উদ্যোগ এখন শুধু বদলে যাওয়া জীবনের গল্প নয়, সোনালি আমকে ঘিরে সম্ভাবনার নতুন গল্পও।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: