মাদ্রাসার ৪ কমলা বিক্রি হলো ৫০ হাজার টাকায়!
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র চারটি কমলা। অথচ দাম উঠল ৫০ হাজার টাকা! সাধারণ বাজারে কয়েকশ টাকার বেশি না হওয়া এই চারটি কমলা এতো দামে কেন কিনলেন এক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী? এর পেছনে রয়েছে মাদ্রাসার প্রতি ভালোবাসা ও সহযোগিতার এক ব্যতিক্রমী ঘটনা।
ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১টা। মাহফিলের শেষ বয়ান করছিলেন শায়খুল হাদীস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী। বয়ান শেষে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এক হালি কমলা প্রকাশ্যে নিলামে তোলা হয়। নিলামে অংশ নিয়ে চারটি কমলা ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ব্যক্তি।
শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্য। ব্যতিক্রমী এ ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে মরিচা মাদ্রাসায় আয়োজন করা হয় ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল। মাহফিলের প্রধান অতিথি ও শেষ বক্তা শায়খুল হাদীস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী বয়ান শেষে মাদ্রাসার সহযোগিতার জন্য এক হালি কমলা নিলামে তোলেন। এ সময় ফেসবুকে মাহফিলের পাশাপাশি নিলামপর্বও সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
নিলামে কমলার প্রাথমিক দাম ধরা হয় ৫ হাজার টাকা। এরপর একে একে দাম বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দর হাঁকিয়ে চারটি কমলা কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন।
মাহফিলে উপস্থিত শ্রোতারা জানান, দোয়ার আগে মাদ্রাসার সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ফলগুলো নিলামে তোলা হয়। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির জন্য আর্থিক সহযোগিতা করা। সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকনের ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান বলেন, তার বাবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার উদ্দেশ্যেই কমলাগুলো কিনেছেন। পাশাপাশি তিনি বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে মাদ্রাসাটিকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। মাদ্রাসাটির উন্নয়নে তার বাবা সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।
মরিচা মাদ্রাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদ ও মুহতামিম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা জানান, মাদ্রাসার সহযোগিতার জন্য গত কয়েক বছর ধরে ওয়াজ মাহফিলে বিভিন্ন ফল নিলামে তোলা হয়। এবার এক হালি কমলা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আধা কেজি খেজুরও নিলামে তোলা হয়, যা বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার টাকায়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ফলগুলো সাধারণ বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ার মূল কারণ হলো মাদ্রাসার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতার মানসিকতা। নিলামে যারা ফল কিনেছেন, তারা সবাই মাদ্রাসার শুভাকাঙ্ক্ষী।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: