আন্তঃক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ও বারীধারা স্কোলার্স
যশোর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত আন্তঃক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজ সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ স্কুল পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বারীধারা স্কোলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কলেজ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
রবিবার (১ নভেম্বর) যশোর সেনানিবাসের শহীদ মেজর জেনারেল রফিক অডিটোরিয়ামে প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের লক্ষ্যে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবং যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় দেশের ১১টি এরিয়া ও জোনের অধীন ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্কুল পর্যায়ে ১০টি এবং কলেজ পর্যায়ে ১০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এতে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য, তথ্য-উপাত্তের উপস্থাপন, বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।
স্কুল পর্যায়ে বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলের চেয়ে দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’ এ বিভাগে বারীধারা স্কোলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ চ্যাম্পিয়ন এবং ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম রানারআপ হয়।
অন্যদিকে, কলেজ পর্যায়ে বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য উৎপাদনশীল কর্মী তৈরির পরিবর্তে সুনাগরিক গড়ে তোলা হওয়া উচিত।’ এ বিভাগে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ চ্যাম্পিয়ন এবং মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ রানারআপ হয়। স্কুল বিভাগে রাজর্ষী রায় এবং কলেজ বিভাগে ডানিয়েল মুসাব্বির সেরা বক্তা নির্বাচিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোর এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. হাফিজুর রহমান, এনডিসি, পিএসসি। তিনি বিজয়ী ও কৃতী বিতার্কিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি তৈরি করা নয়; বরং সততা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলাও জরুরি। দক্ষতা মানুষকে উৎপাদনশীল করে, আর চরিত্র সেই অবদানকে অর্থবহ করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, যুক্তিনির্ভর মত প্রকাশ, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশে বিতর্কচর্চার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি, বিচারবোধ ও সততা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, ট্রফি অর্জনই সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। যুক্তি উপস্থাপন, অন্যের মতামত শোনা এবং প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার মধ্য দিয়েও শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা বিকশিত করতে পারে।
এ ধরনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আয়োজক, অভিভাবক, বিচারকমণ্ডলী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: