ব্যাংক সংস্কার নিয়ে এমপি হাসনাতের বিস্ফোরক অভিযোগ
ব্যাংক সংস্কার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত। এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও পরিচালকদের মেয়াদ নিয়ে আগের সংস্কার প্রস্তাব থেকে সরে আসছে সরকার। এতে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবশালী পরিবারগুলোর ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আবারও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দেওয়া ওই পোস্টে হাসনাত দাবি করেন, ব্যাংকগুলোকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখতে একসময় নিয়ম ছিল—এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন ব্যাংকের পরিচালক হতে পারবেন এবং একজন পরিচালক টানা ছয় বছরের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৮ সালে পরিচালকের মেয়াদ বাড়িয়ে নয় বছর করা হয় এবং এক পরিবারের সর্বোচ্চ চারজনকে পর্ষদে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে পরিবারের সদস্যসংখ্যা তিনজনে নামিয়ে আনা হলেও পরিচালকের মেয়াদ বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়। সে সময় অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর এর ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন হাসনাত।
হাসনাতের দাবি, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই প্রস্তাবে আগের নিয়মে ফিরে গিয়ে এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন পরিচালক এবং পরিচালকের সর্বোচ্চ টানা ছয় বছর দায়িত্ব পালনের বিধান রাখার কথা বলা হয়। পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অন্তত ৫০ শতাংশ স্বাধীন পরিচালক রাখার প্রস্তাবও ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, পরিচালকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের বিষয়টি পরিচালকের দায়িত্ব ও যোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর এসব সংস্কার উদ্যোগ থেকে সরে আসা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে হাসনাত আরও দাবি করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার জায়গায় একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাতের অভিযোগ, বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব নাকচ করে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ তিনজনকে ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ দিতে চায়। একই সঙ্গে পরিচালকদের মেয়াদ ছয় বছরের পরিবর্তে নয় বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া পরিচালকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের বিষয়টি বাদ দেওয়ার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের কারণে পরিচালক পদ হারানোর পর পুনরায় পর্ষদে ফেরার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় এক বছর থেকে ছয় মাসে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত।
তিনি বলেন, তার মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যেসব নিয়ম প্রভাবশালী পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়িয়েছিল, সেগুলোই আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এতে আগের সংস্কার উদ্যোগগুলোও ব্যর্থ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আরও বলেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের অর্থ নিয়ে পরিচালিত হয়; এটি কোনো পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তার অভিযোগ, ব্যাংক খাতের সংস্কার বাতিল করে দিলে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ পরিবারের পরিবর্তে বিএনপির ঘনিষ্ঠ বা নতুন করে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী পরিবারগুলোর হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে হাসনাতের পোস্টে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: