• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধে সেনাদের জীবন উৎসর্গের ডাক! সৌদির গ্র্যান্ড মুফতির বার্তায় উত্তেজনা

প্রকাশিত: ১৩:১০, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৩:১১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
যুদ্ধে সেনাদের জীবন উৎসর্গের ডাক! সৌদির গ্র্যান্ড মুফতির বার্তায় উত্তেজনা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা দেশটির সেনা সদস্যদের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার জানিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। সব মিলিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে রিয়াদের অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তারই ইঙ্গিত মিলছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত সেনাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তিনি শাসক ও সামরিক কমান্ডারদের আদেশ মেনে চলার পাশাপাশি দেশের সীমান্ত, ভূখণ্ড ও পবিত্র স্থান রক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। কোরআনের আয়াত ও মহানবীর ত্যাগ ও সংগ্রাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হাদিসের উদ্ধৃতি ছিল তার বার্তায়।

গ্র্যান্ড মুফতির বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সুরক্ষা এবং এর ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জায়গার ওপরও কেউ হাত বাড়ালে তাকে শাস্তি দেওয়া বড় দায়িত্ব এবং অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এ দায়িত্ব পালনে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে।

গ্র্যান্ড মুফতির বক্তব্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদির ঘনিষ্ঠ ইয়েমেন সরকারের কর্তৃত্ব পুরো দেশে প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়। হুথিদের সম্পূর্ণ পরাজয় এবং তাদের সহযোগী ও সমর্থকদেরও পরাজয়ের জন্যও প্রার্থনা করেন তিনি। 

সম্প্রতি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমগুলোতে হুথিদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাষ্য জোরালো হচ্ছে।  দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের একটি মসজিদে হুথিদের কথিত হামলার ফুটেজ প্রচার করা হয়েছে। হুথিদের হামলা ও দেশটির প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কিছুদিন আগেই পবিত্র মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এটিকে সৌদি আরবের লাগাতার মিথ্যাচারের অংশ বলে অভিহিত করেছে। 

এদিকে হুথিদের নাটকীয় অগ্রযাত্রার মুখে সাম্প্রতিক মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর জরুরি বৈঠক করেন তিন দেশের সামরিক প্রধানরা। সামরিক কর্মকর্তারা মক্কা চুক্তিতে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলোকে কীভাবে অবিলম্বে কার্যকর সামরিক সহযোগিতায় রূপ দেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। এই জোটের শর্তানুযায়ী, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা মানেই জোটভুক্ত সব দেশের ওপর হামলা। এর একদিন আগেই নিউইয়র্কে বৈঠক করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও।  

এর আগে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সূত্র ধরে তুরস্ক জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে সৌদির সামরিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে প্রস্তুত তারা। পাকিস্তানও চুক্তির অধীনে জোরালো সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে হুথিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও তেহরান আপাতত সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, হুথিরা কর্মকাণ্ডের দায় তাদের নিজেদের। এর জন্য ইরান দায়ী নয়। সব মিলিয়ে ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে আরো জটিল রূপ নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনগুলো।

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত