কার দখলে বাব আল-মান্দেব? তাইজে এগিয়ে যাচ্ছে হুথিরা!
বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে আবারও জ্বলে উঠেছে ইয়েমেন যুদ্ধের আগুন। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলের এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। সরকারি বাহিনীর দাবি, দ্রুতগতির অভিযানে এরই মাঝে তারা বাব এল–মান্দেব প্রণালির আশপাশের বেশকিছু উপকূলীয় এলাকা থেকে মোখা শহর পর্যন্ত অঞ্চল পুনর্দখল করেছে। প্রণালির দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হুথিদের সরবরাহপথও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানের গুরুত্ব শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাব আল-মান্দেব দিয়েই লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল এবং ইউরোপের সঙ্গে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরি হয়। ফলে এই জলপথে কোনো পক্ষের সামরিক নিয়ন্ত্রণ বা জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যখন এরই মধ্যে তীব্র অস্থিরতা চলছে, তখন বাব আল-মান্দেবে নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, বাব আল-মান্দেবের প্রবেশপথের কাছে ধুবাব জেলার বড় একটি অংশ তারা দখলে নিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যাপক বিমান সহায়তায় এই অভিযান চালানো হয়। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকির দাবি, প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তা করছে। বাব আল-মান্দেবের আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুথিদের বহু সামরিক অবস্থান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে এই জোট।
বাব আল-মান্দেব দখলে লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উপকূলীয় অঞ্চল মোখা। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত কৌশলগত এই বন্দরনগরীও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেন সরকার। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সৌদি বিমান হামলার সহায়তায় সরকারি বাহিনী মোখার উপকণ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছে গেলে হুথি যোদ্ধারা পার্বত্য এলাকার দিকে সরে যেতে শুরু করে।
এখানেই থামছে না এ বাহিনী। এবার তাদের লক্ষ্য আরও বড়, রাজধানী সানা দখলে নেয়া। সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানী পুনর্দখলের লক্ষ্যেও কৌশলগত অভিযান শুরু করা হয়েছে। ২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকেই রাজধানীটি তাদের নিয়ন্ত্রণে। বাব আল-মান্দেবের উপকূল থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান যদি সত্যিই সানার দিকে বিস্তৃত হয়, তাহলে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের স্থবির যুদ্ধ নতুন মাত্রা পেতে পারে।
এদিকে হুথিরা এসব দাবি অস্বীকার করেছে। বরং পাল্টা আঘাতের দাবি জানিয়েছে তারা। তাদের দাবি, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগে অঞ্চলে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা।
একই সাথে ইয়েমেনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র তাইজ অঞ্চলেও অগ্রসর হওয়ার দাবি জানাচ্ছে হুথিরা। সরকারি সামরিক সূত্রগুলো বলছে, তাইজের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি সড়কের কিছু অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় সরকারি বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
একদিকে বাব আল-মান্দেব ও মোখায় সরকারি বাহিনীর দ্রুত অগ্রযাত্রা, অন্যদিকে তাইজে হুথিদের চাপ, দুই বিপরীতমুখী যুদ্ধ ফ্রন্টে এখন ব্যাপক উত্তপ্ত ইয়েমেন। সব মিলিয়ে শেষমেশ এই যুদ্ধের মোড় কোন দিকে যাবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিভি/এইচজে













মন্তব্য করুন: