• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স: শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

প্রকাশিত: ১৮:২৫, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৮:২৭, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স: শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের ব্যবহৃত রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেড ও অন্যান্য সরঞ্জামের আঘাতে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনা সামনে আসার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব অস্ত্র নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের বলপ্রয়োগে আহত হওয়ার অন্তত ২৮টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকজনের স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব অস্ত্র প্রয়োজন।

সম্প্রতি ফ্রান্সের সাঁ-তুয়াঁ-লোঁমোন এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেডের আঘাতে ১৪ বছর বয়সী ইডেনের চোয়াল ভেঙে যায় এবং কয়েকটি দাঁত ভেঙে পড়ে। তার পরিবারের আইনজীবী এলসা মার্সেল জানান, বিক্ষোভস্থল থেকে কয়েক মিটার দূরে বসে মোবাইল ফোন দেখছিল কিশোরটি। এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এর জবাবে ইডেন লাথি মারলে আরেক কর্মকর্তা কুগার লঞ্চার দিয়ে কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেড ছোড়েন, যা তার মুখে আঘাত করে। এ ঘটনায় পরিবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছে। ঘটনার আট দিন পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।

ফ্রান্সের বিভিন্ন স্কুলে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু একে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভ বলে বর্ণনা করেছেন। আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ পুলিশ নজরদারি সংস্থা আইজিপিএন (IGPN) ২৪টি ঘটনা তদন্ত করছে। রয়টার্সের নথিভুক্ত ২৮টি আহত হওয়ার ঘটনার মধ্যে ১৫টি এ তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এসব ঘটনায় রাবার বুলেট, স্টান গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস, লাঠি এবং ঘোড়ায় চড়ে পুলিশের ধাওয়া দেওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দুটি ঘটনায় রাবার বুলেটের আঘাতে একজনের চোখ নষ্ট হয়েছে অথবা গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। লঁস শহরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাতও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের ধারণা, স্টান গ্রেনেডের আঘাতে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ ধরনের গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত করেছেন।

নুনেজ বুধবার এক বেতার সাক্ষাৎকারে জানান, প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তবে তার দাবি, এসব আঘাতের জন্য খুব কম ক্ষেত্রেই পুলিশের পদক্ষেপ দায়ী। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। স্কুলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের পাশাপাশি শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ৬ হাজার ৮৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের গবেষক সেবাস্তিয়ান রোশ বলেন, মাত্র ১২ দিনে চারটি স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, যার শিকার সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক। তার মতে, পুলিশের অস্ত্র ব্যবহার ও হতাহতের সংখ্যার দিক থেকে ফ্রান্স ইউরোপে ব্যতিক্রম।

রোশ জানান, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও জার্মানিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণত রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় না। জার্মানির হামবুর্গে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। স্পেনে এসব অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও সেখানে আহত হওয়ার ঘটনা ফ্রান্সের তুলনায় কম।

প্যারিসের উপকণ্ঠ আর্ঝঁতুইয়ে ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী স্কুল বন্ধ পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের গুলিতে আহত হয়। তার বাম চোখ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সোফিয়া কেরবা। তবে সে রাবার বুলেটে, নাকি অন্য কোনো বস্তুর আঘাতে আহত হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। এ ঘটনা ও ইডেনের আহত হওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্য করেনি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার সংগঠন ও কয়েকজন রাজনীতিক এসব অস্ত্র স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন। বামপন্থি দল ফ্রান্স আনসঁমির মেয়র বালি বাগায়োকো বলেন, রাবার বুলেটের ব্যবহার বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা উচিত।

তবে পুলিশ ইউনিয়নের প্রতিনিধি থিয়েরি ক্লেয়ার মনে করেন, সহিংস পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব অস্ত্র প্রয়োজন। তার ভাষ্য, মধ্যবর্তী বলপ্রয়োগের উপায় সরিয়ে নিলে পুলিশের হাতে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।

সূত্র: রয়টার্স

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: