ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১৫, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, শহরটিতে রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় রাশিয়া আজ আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে পাঁচটি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।’
তিনি আরও জানান, হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিয়েভ থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক অড্রে ম্যাকঅ্যালপাইন বলেন, ইউক্রেনজুড়ে দিনের বেলায় হামলার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি বাসস্টপে গ্লাইড বোমার আঘাতে ৩০ জন নিহত হন। এ ছাড়া সম্প্রতি রাজধানী কিয়েভেও দিনের বেলায় জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোনের মাধ্যমে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনা বেড়েছে।
ম্যাকঅ্যালপাইন বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি জেটচালিত ড্রোনের শব্দ শুনে একটি ভবন থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এসব ঘটনা ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষের জন্য পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, তা তুলে ধরছে।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা
এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে মার্কিন, ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বৈঠকের এক দিন পরই এ হামলার ঘটনা ঘটল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বৈঠকের কথা জানান।
শুক্রবার উইটকফ বলেন, শীত আসার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনা কমানো ও সংঘাতের অবসান ঘটানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে বৈঠকে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কথা হয়েছে।
তিনি জানান, বৈঠকে ইউরোপের তিনটি প্রধান দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সমন্বয়ে গঠিত ‘ইথ্রি’ (E3), ইউরোপীয় কমিশন, ইউক্রেন এবং ন্যাটোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় জ্বালানি খাতের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা, শস্য রপ্তানি, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় বলে জানান উইটকফ।
এ ছাড়া যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) দেশটির যোগদানের বিষয়েও ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত একটি বিপজ্জনক ‘অচলাবস্থায়’ পৌঁছেছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির ঝুঁকি বাড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘অচলাবস্থার অবসান ঘটার আরেকটি পথ হলো সংঘাতের আরও বিস্তার।’
এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান যুদ্ধ প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: