চোরের ১০ দিন, পুলিশেরও একদিন!
চুরির পর চুরি করে যাচ্ছিলেন তিনি। তালাবদ্ধ বাড়ি, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা কিংবা দামি মুঠোফোন- কোনো কিছুই যেন তার নজর এড়াত না। নিজের পরিচয় আড়াল করতে বেছে নিয়েছিলেন বোরকা। এমনকি স্বামীর অজান্তে অনলাইনে শিখেছিলেন বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার কৌশলও। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরার চোখ এড়াতে পারেননি। হায়দরাবাদে একের পর এক চুরির অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী পাগা জয়ার গ্রেফতারের পর সামনে এসেছে এমনই এক ঘটনা।
পুলিশের দাবি, জয়া পাঁচটি চুরির ঘটনায় জড়িত। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, নগদ টাকা এবং একটি আইফোন ১৭। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ রুপি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চুরির সময় নিজের পরিচয় গোপন রাখতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতেন জয়া। কালো রঙের লম্বা বোরকায় মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতেন। হাতে পরতেন কালো গ্লাভস, আর পিঠে থাকত হালকা নীল রঙের ব্যাগ। সব মিলিয়ে তার উপস্থিতি যেন সহজে শনাক্ত করা না যায়, সেই চেষ্টাই করতেন তিনি।
তবে সতর্কতার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। একটি তালাবদ্ধ বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করার সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার গতিবিধি। ফুটেজে দেখা যায়, বাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। পরে সেখান থেকে চলে যান। পুলিশের তদন্তে ওই ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পুলিশের দাবি, বিলাসবহুল জীবনযাপনের খরচ জোগাতেই চুরির পথ বেছে নিয়েছিলেন জয়া। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
হায়দরাবাদে চুরির আরেকটি ঘটনায় নবীন নামে এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে ১০টি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার কাছ থেকে প্রায় ৩৭ তোলা, অর্থাৎ ৪৩০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুটি ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের চুরির ধরন, উদ্ধার হওয়া মালামাল এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
চুরি করে কিছু সময় পার পাওয়া গেলেও অপরাধের সূত্র যে একসময় সামনে আসতে পারে, হায়দরাবাদের এই দুই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়। তালাবদ্ধ বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা, সিসিটিভি ফুটেজ কিংবা উদ্ধার হওয়া মালামাল- তদন্তে এসব সূত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে গ্রেফতার হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। পুলিশি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: