• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬

রিয়াদে ফের হুথিদের হামলা, উড়ে গেল আরামকোর ভবনের কয়েক তলার জানালা!

প্রকাশিত: ২২:৫৬, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
রিয়াদে ফের হুথিদের হামলা, উড়ে গেল আরামকোর ভবনের কয়েক তলার জানালা!

ছবি: ইন্টারনেট

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর করপোরেট ভবনে ফের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। রবিবার (৮ নভেম্বর) ভোরে চালানো এ হামলায় ভবনটির কয়েকটি তলার জানালা ভেঙে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

রাজধানীর আর্থিক জেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আরামকো টাওয়ারে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবনটিতে হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার সময় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে জানালাগুলো ভেঙে যায়। ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে হামলার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করেনি মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে, ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ভোরে রিয়াদের আকাশে হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। হুথিরা এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন করে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত বাড়িয়েছে গোষ্ঠীটি।

হুতিদের আগের হামলার পর কয়েক সপ্তাহ ঘরে বসে অনলাইনে ক্লাস করার পর রবিবার সৌদি আরবের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার সশরীর পাঠদান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার আশঙ্কায় বন্ধ থাকা বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থার কার্যালয়ের কার্যক্রমও স্বাভাবিক হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবে আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে হুথিরা। এর মধ্যে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ধাহরানে অবস্থিত তেল কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ও রয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রবিবার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশেও হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক সৌদি আরবের অধিকাংশ তেল ও গ্যাসের মজুত এ অঞ্চলে অবস্থিত। এ ছাড়া রিয়াদে হামলায় ব্যবহৃত হুথিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ইয়েমেনের সা’দা এলাকায় ধ্বংস করার দাবি করেছে জোটটি।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে থাকা জোট ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। হরমুজ প্রণালির মতোই গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে।

এরপর থেকে সৌদি আরবের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে হুথিরা। এর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রবিবারের হামলায় বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত অক্টোবরে বিমানবন্দরে একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।

হুথিদের হামলার জবাবে ইয়েমেনে গোষ্ঠীটির বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি আরব। সর্বশেষ উত্তেজনা বৃদ্ধির এক দিন আগে, অর্থাৎ শনিবার, হুথিনিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করে, সানার কাছে সৌদি বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এ ঘটনার তদন্ত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব হুথিদের মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক- উভয় ধরনের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। গত অক্টোবরে ব্রিটেন জানিয়েছিল, হুথিদের আকাশপথের হামলা থেকে সৌদি শহরগুলোকে সুরক্ষা দিতে তারা প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে যুদ্ধবিমান পাঠাবে।

একই সঙ্গে কূটনৈতিক পথেও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে রিয়াদ। গত মাসে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশীদার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তেহরান জানায়, বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রিয়াদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: