বিএনপির রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিএনপির রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কৃষকসহ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের বন্যায় ফেনীর এ এলাকা পানিতে ডুবে গিয়েছিল। মানুষের উপকারের কথা বিবেচনা করেই খাল ও নদী খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩৪ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও বাড়বে। এতে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের কল্যাণের রাজনীতি। কৃষকসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে উপকৃত হন, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।
কৃষকদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা থাকবে না বলেও জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের মা ও বোনদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবারের পাশাপাশি পুরুষরাও উপকৃত হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা আরও সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। এসব কর্মসূচিকে বিএনপির জনকল্যাণমূলক রাজনীতির অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সময়ে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন সেগুলো আবার চালু হচ্ছে। এর ফলে মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, পরশুরাম উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছর স্বৈরাচার মানুষের টুঁটি চেপে ধরেছিল। মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল, নেমে এসেছিল দুর্দশা। ২০২৪ সালে মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। বিএনপি সর্বশক্তি নিয়োগ করে নিশ্চিত করবে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আইন সবার জন্য সমান থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই রাজনৈতিক দলের ১৯৭১ সালে কী ভূমিকা ছিল, সেটিও দেশের মানুষকে ভাবতে হবে।’
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: