ধোলাইখাল ট্রাকস্ট্যান্ড সরানো ও লোহারপুল খালের সৌন্দর্যবর্ধনে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের উদ্যোগ
ফাইল ছবি
রাজধানীর ধোলাইখাল ট্রাকস্ট্যান্ড অন্যত্র স্থানান্তর এবং লোহারপুল খালের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) অনুরোধ জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি। সম্প্রতি ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়ে এসব উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানান তিনি। পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ধোলাইখাল ট্রাকস্ট্যান্ড স্থানান্তরের বিষয়ে চিঠিতে ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত ধোলাইখাল রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গড়ে ওঠা ট্রাকস্ট্যান্ডের কারণে দিনরাত ভারী যানবাহন চলাচল এবং সড়কের ওপর ট্রাক অবস্থানের ফলে এলাকার স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তীব্র জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাকস্ট্যান্ডের কারণে যানজট, শব্দ ও বায়ুদূষণও বাড়ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান স্থানে ট্রাকস্ট্যান্ড পরিচালনা জনস্বার্থ, উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও জনবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ধোলাইখাল থেকে ট্রাকস্ট্যান্ডটি দ্রুত উপযুক্ত বিকল্প স্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় ধোলাইখাল ট্রাকস্ট্যান্ডের বর্তমান অবস্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি উপযুক্ত বিকল্প স্থান নির্ধারণের আহ্বান জানান ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে ট্রাকস্ট্যান্ডটি স্থানান্তরে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গৃহীত পদক্ষেপ ও অগ্রগতি তাকে অবহিত করার জন্য ডিএসসিসির প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
অন্যদিকে, লোহারপুল খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় খালের দুই তীরে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিতে ডিএসসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাঠানো ওই চিঠিতে ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, লোহারপুল খালটি সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে বর্তমানে খালের পাড়ের অপরিকল্পিত ব্যবহার, ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ, অবৈধ দখল ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে খালটির প্রাকৃতিক নান্দনিকতা এবং পরিবেশগত কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনী এলাকার মানুষের নাগরিক সুবিধা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
এর মধ্যে রয়েছে- লোহারপুল খালের দুই পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানো; খালের পাড়ের উপযোগী স্থানে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ওয়াকওয়ে নির্মাণ; ওয়াকওয়ের পাশে বসার বেঞ্চ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার জন্য স্ট্রিট লাইট ও ডাস্টবিন স্থাপন; খালের পাড়ে অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা প্রতিরোধ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা; এবং পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় রেলিং বা অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন।
চিঠিতে ইশরাক হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমন্বিত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে লোহারপুল খালের পরিবেশ ও নান্দনিকতা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য নিরাপদ হাঁটার স্থান ও উন্মুক্ত নাগরিক পরিসর তৈরি হবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ সবুজায়ন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদে খাল সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিঠির শেষাংশে জনস্বার্থ ও খালটির পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিএসসিসিকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: