পাহাড়ের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সম্ভাবনা দেখছে সরকার: হাসান আরিফ
পাহাড়ে উৎপাদিত আম, কলা, কাঁঠাল, আনারস, পেঁপে, আদা ও হলুদের মতো কৃষিপণ্য দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব পণ্য রপ্তানিযোগ্য করতে মানসম্মত উৎপাদন, উত্তম কৃষিচর্চা ও বিপণনব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে পাহাড় থেকে সমতলে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী ‘কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উদ্যোক্তা ও চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবলস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রামের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, পাহাড়ের কৃষিপণ্য রপ্তানিযোগ্য করতে মানসম্মত ফসল উৎপাদন ও উত্তম কৃষিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। কৃষিপণ্যের বিপণন সহজ করতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সরকারের সঙ্গে কাজ করছে।
পরিবহন ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাহাড় থেকে সমতলে পণ্য পরিবহনে সরকার নির্ধারিত টোল বা কর ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত খরচ গ্রহণযোগ্য নয়। চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলে কৃষকদের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে তারা বিপণনের ক্ষেত্রে পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের সম্ভাবনাময় আম, কলা, কাঁঠাল, আনারস, আদা ও হলুদ নিয়ে তারা স্বপ্ন দেখছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন।
প্রশিক্ষণে কৃষিপণ্য রপ্তানির প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ, বিদেশি ক্রেতা অনুসন্ধান এবং রপ্তানিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে আলোচনা করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক কুমকুম সুলতানা।
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিপন হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম হারুনর রশিদ, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আতিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কৃষিবিদরা বলেন, উত্তম কৃষিচর্চার অভাব পাহাড়ি ফলমূল রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে নিরাপদ ও মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি উৎপাদন, সংগ্রহ ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে গুণগত মান বজায় রাখতে হবে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রান্তিক কৃষক আবু তাহের বলেন, উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বিপণন সহজ করতে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাহাড় থেকে সমতলে পণ্য পরিবহনে সরকারি টোলের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ চাঁদা হিসেবে দিতে হলে প্রান্তিক কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা জরুরি।
বাগানমালিক এনামুল হক বলেন, পাহাড়ে হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই সময়ে আম, কাঁঠাল, আনারস ও পেঁপে পেকে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হয় না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পাহাড়ি কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মানসম্মত উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে পাহাড়ের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: