কে এই ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি?
ছবি: ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি (সংগৃহীত)
জমি দখলের উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি ভেঙে দখল প্রতিষ্ঠা করতে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। ২০০৪ সালে ওই জমি বরাদ্দ চেয়ে সমিতির পক্ষ থেকে করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে মিষ্টির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়ও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
আইন-প্রশাসন সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শত শত কর্মীবাহিনী নিয়ে এক রাতে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে আলোচনায় আসা কে এই নারী? ঘটনার শুরু থেকেই সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।
সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ এর এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ছিলেন সদ্যবিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তার আরেক পরিচয় তিনি ২০১৫ সালে কারাগারে প্রাণ হারানো বিএনপির সাবেক আলোচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর ছোট বোন।
মিষ্টি কলেজ জীবন থেকেই ছিলেন ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়। রাজধানীর সরকারি বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএসও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন ছিলেন মিরপুর এলাকার বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন তিনি। তবে বিএনপির শাসনআমলেই ২০০২ সালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান নিউটন। পরে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মিষ্টি। সেই থেকে মিরপুর অঞ্চলের প্রভাববলয় তৈরি করতে থাকেন এই নারী। দায়িত্ব পান দলের মহানগর কমিটিতেও।
তবে আওয়ামী লীগের ১৭ বছর কিছুটা ব্যাকপুটে থাকতে হয় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে। ২০১৫ থেকে ১৮ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন আইনে অন্তত ৭টি মামলার এজহারভুক্ত আসামি করা হয়েছিল তাকে।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, ফ্যাসিস্ট শাসনামলেল ত্যাগ ও এলাকায় জনপ্রিয়তার বিবেচনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য করেছিল দলটি। তবে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এই নারী সাংসদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে দলের হাইকমান্ড। এমপি মিষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সারাদেশের দলীয় নেতাকর্মীদের একটি স্পষ্ট বার্তাও দিলেন প্রধানমন্ত্রী-যে অপরাধে জড়ালে ছার নেই, খোয়াতে হতেপারে সবকিছু।
বিভি/কেএস/এআই













মন্তব্য করুন: