• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ের ডাক, নৈসর্গিক রূপের আড়ালে প্রকৃতির নীরব আকুতি

মোহাম্মাদ উল্লাহ সোহেল

প্রকাশিত: ০০:২৩, ১০ আগস্ট ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পাহাড়ের ডাক, নৈসর্গিক রূপের আড়ালে প্রকৃতির নীরব আকুতি

সমতলের যান্ত্রিকতা আর ইট-কাঠের খাঁচা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ চিরকালই নিজেকে ছুটিয়ে নিয়েছে প্রকৃতির পানে। আর সেই প্রকৃতির সবচেয়ে বিশাল, শান্ত ও গম্ভীর আশ্রয়গুলোর একটি হলো পাহাড়। মেঘের সঙ্গে পাহাড়ের লুকোচুরি, দূর দিগন্তে হাতছানি দেওয়া সবুজ উপত্যকা আর পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝরনার কলতান—সব মিলিয়ে এ যেন এক অলৌকিক ক্যানভাস। পাহাড় কেবল চোখের আরাম নয়, মানুষের আত্মাকে প্রশান্ত করার এক নীরব মহৌষধ।

তবে আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে পাহাড়কে কেবল ‘ভ্রমণপিপাসুদের গন্তব্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাহাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের অন্তরালে রয়েছে পরিবেশগত ভারসাম্যের এক বিশাল সমীকরণ। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বিশুদ্ধ বাতাসের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল হিসেবে পাহাড় পৃথিবীর পরিবেশব্যবস্থার এক অপরিহার্য অংশ। পাহাড় আমাদের শেখায় কীভাবে সব বাধা জয় করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, কীভাবে হাজারো নীরবতা বুকে ধারণ করেও চারপাশকে স্নিগ্ধতায় ভরিয়ে দেওয়া যায়।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে পাহাড়ের এই স্বাতন্ত্র্য ও সৌন্দর্য গুরুতর হুমকির মুখে। অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত পর্যটনের নামে পাহাড়ের গায়ে প্রতিনিয়ত আঁচড় কাটা হচ্ছে। পাহাড়ি পথে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে যত্রতত্র পাহাড় কাটার প্রবণতা আমাদের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। যে পাহাড়ে আমরা স্বস্তি খুঁজতে যাই, সেই পাহাড়কেই আমরা প্রতিনিয়ত দূষিত ও বিপন্ন করে তুলছি।

পাহাড়ের রূপ তখনই অর্থপূর্ণ হবে, যখন তার সুরক্ষায় আমরা সচেতন হব। পর্যটনশিল্পকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বা ‘ইকো-ট্যুরিজম’-এর ওপর জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। পাহাড়ের বুকে পা রাখার আগে আমাদের মনে রাখতে হবে—প্রকৃতি থেকে আমরা কেবল স্মৃতি আর মানসিক প্রশান্তি কুড়িয়ে নেব; আর বদলে রেখে আসব কেবল আমাদের পায়ের ছাপ, কোনো বর্জ্য নয়।

পাহাড় তার আপন মহিমায় যুগ যুগ ধরে দাঁড়িয়ে আছে এবং থাকবে। কিন্তু সেই পাহাড়ের স্নিগ্ধতা ও সৌন্দর্য আগামী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখার দায়ভার আমাদের সবার। পাহাড়কে ধ্বংস করে নয়, বরং পাহাড়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে প্রকৃতির এই অনন্য উপহারকে রক্ষা করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত