ফরজ গোসল করেও যেসব কারণে গুনাহগার হতে পারেন
প্রতীকী ছবি
ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের জন্য ফরজ গোসল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, শরীরে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুয়ে নিলেই গোসল সম্পন্ন হয়ে যায়। তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ফরজ গোসলের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেগুলো যথাযথভাবে পালন না করলে গোসল সহিহ নাও হতে পারে।
গোসলের সময় অসতর্কতার কারণে শরীরের কোনো অংশ শুকনো থেকে যাওয়া কিংবা পানির পথে কোনো বাধা থাকা, এ ধরনের বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।
কুলি ও নাকে পানি দেওয়া
ফরজ গোসলের সময় মুখের ভেতরে পানি পৌঁছানো এবং নাকে পানি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শুধু শরীরের ওপর পানি ঢেলে দিলেই যথেষ্ট নয়।
কুলি করার সময় মুখের ভেতরের অংশে পানি পৌঁছাতে হবে। একইভাবে নাকের ভেতরেও যথাযথভাবে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
শরীরের কোনো অংশ শুকনো রাখা যাবে না
গোসলের সময় পুরো শরীরে পানি পৌঁছানো জরুরি। বিশেষ করে চুলের গোড়া, শরীরের ভাঁজ এবং এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে অসতর্কতার কারণে পানি পৌঁছাতে নাও পারে। তাই গোসলের সময় শরীরের কোথাও পানি পৌঁছানো বাদ পড়েছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
নেলপলিশ বা আঠার মতো আবরণ
শরীর বা নখের ওপর এমন কোনো পদার্থের আবরণ থাকলে, যা ত্বক বা নখে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, সেটি গোসলের আগে সরিয়ে নেওয়া দরকার। নেলপলিশ, শক্ত আঠা বা এ ধরনের আবরণ থাকলে তার নিচে পানি পৌঁছায় না। ফলে ওই অংশে পানি না পৌঁছানোর কারণে গোসল সহিহ হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
আংটি ও অলংকারের ব্যাপারেও সতর্কতা
আংটি, নাকফুল, কানের দুলসহ কোনো অলংকার যদি এমনভাবে পরা থাকে যে তার নিচে পানি পৌঁছাচ্ছে না, তাহলে গোসলের সময় তা একটু নেড়ে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করা উচিত।
একইভাবে চুল শক্ত করে বাঁধা বা জট পাকানো থাকলে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও খেয়াল করতে হবে।
গোসলের সময় সতর্ক থাকা জরুরি
ফরজ গোসলের উদ্দেশ্য শুধু শরীর পরিষ্কার করা নয়; শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পবিত্রতা অর্জন করাও এর উদ্দেশ্য। তাই গোসলের সময় তাড়াহুড়া না করে শরীরের প্রয়োজনীয় সব অংশে পানি পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত করা উচিত।
তবে ফরজ গোসলের কিছু বিস্তারিত বিধান মাযহাবভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো বিষয়ে সংশয় থাকলে নিজের অনুসৃত মাযহাবের নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নেওয়াই উত্তম।
বিভি/এনএইচ/এমআর













মন্তব্য করুন: