• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

ঋণমুক্তির জন্য নবী সা. যে দোয়া শিখিয়েছেন 

প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৪:৫০, ১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ঋণমুক্তির জন্য নবী সা. যে দোয়া শিখিয়েছেন 

প্রতিকী ছবি (এআই)

জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ কখনো কখনো ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ঋণের বোঝা মানুষের দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঋণ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন এবং সাহাবিদেরও ঋণমুক্তির জন্য বিভিন্ন দোয়া ও আমল শিক্ষা দিয়েছেন।

ঋণ থেকে আশ্রয় চাইতেন রাসুলুল্লাহ সা.
হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. নামাজে ঋণের বোঝা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, মানুষ ঋণগ্রস্ত হলে কথা বলার সময় মিথ্যা বলতে পারে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করতে পারে।( সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩৯৭)

এ থেকে বোঝা যায়, ঋণকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও রিজিক প্রার্থনা করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।

ঋণমুক্তির জন্য একটি দোয়া
হজরত আলী (রা.)-এর সূত্রে একটি বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের জন্য তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি তাকে রাসুলুল্লাহ সা. এর শেখানো একটি দোয়া শিক্ষা দেন।
আরবি:
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাকফিনী বিহালালিকা আন হারামিক, ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ:
“হে আল্লাহ! আপনার হালাল দ্বারা আমাকে আপনার হারাম থেকে যথেষ্ট রাখুন এবং আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করুন।”

এই দোয়াটি জামে তিরমিজি ৩৫৬৩-এ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনার সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
ঋণের ভার ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া

হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি ঋণ ও দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সা. তাঁকে এমন একটি দোয়া শিক্ষা দেন, যা সকাল-সন্ধ্যায় পড়তে বলেন। আবু উমামা (রা.) জানান, পরবর্তীতে আল্লাহ তাঁর দুশ্চিন্তা দূর করেন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন।

দোয়াটি হলো:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল-হাম্মি ওয়াল-হাযানি, ওয়াল-আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়াল-বুখলি ওয়াল-জুবনি, ওয়া দালাইদ-দাইনি ওয়া গালাবাতির-রিজাল।
অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে, ঋণের ভার এবং মানুষের প্রভাবাধীন হওয়া থেকে।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস )

ঋণমুক্তির জন্য করণীয়
শুধু দোয়া পড়াই নয়, ঋণ পরিশোধের জন্য বাস্তব প্রচেষ্টাও করতে হবে। হালাল উপায়ে উপার্জন করা, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, ঋণদাতার সঙ্গে সৎভাবে যোগাযোগ রাখা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করা জরুরি।

আল্লাহ বলেন:
“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করে না।”  (সূরা আত-তালাক, ৬৫:২–৩)

ঋণ মানুষের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা হতে পারে। রাসুলুল্লাহ সা. নিজে ঋণের বোঝা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন এবং সাহাবিদেরও ঋণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। তাই একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করার পাশাপাশি হালাল উপায়ে উপার্জন ও ঋণ পরিশোধের সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত