• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

মদের ব্যবসা করা জায়েয?

প্রকাশিত: ১৫:২০, ২ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৫:২৩, ২ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মদের ব্যবসা করা জায়েয?

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে মদ বা অ্যালকোহল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মদ পান করার পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা এসেছে।

পবিত্র কোরআনের সুরা মায়িদার ৯০ নম্বর আয়াতে মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদি ও ভাগ্য নির্ধারণের তীরকে অপবিত্র ও শয়তানের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মুমিনদের এসব থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসেও মদকে নানা ধরনের অনৈতিকতা ও ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদ পান থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সাহাবিদের সতর্ক করেছেন। এছাড়া অল্প বা বেশি যে পরিমাণেই হোক, মাদকজাতীয় পানীয় গ্রহণের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

মদের ব্যবসা করা
মদ পান করার পাশাপাশি এর কেনাবেচাও ইসলামে নিষিদ্ধ। সহিহ হাদিসে মদ বিক্রি ও এর মূল্য গ্রহণের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে মদ উপহার হিসেবে নিয়ে এলে তিনি জানান, আল্লাহ মদ হারাম করেছেন। ওই ব্যক্তি সেটি বিক্রি করার পরামর্শ পেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যিনি মদ পান করা হারাম করেছেন, তিনি এর বিক্রিও হারাম করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৭৯)

এ কারণে মদের ব্যবসা করা ইসলামী শরিয়তে জায়েজ নয় বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন।

মদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি
মদ উৎপাদন, বহন, বিক্রি বা পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো কাজে চাকরি করাও শরিয়তসম্মত নয় বলে ফিকহের গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মদ তৈরির কারখানায় উৎপাদন, পরিবহন কিংবা পরিবেশনের মতো কাজে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
হাদিসে মদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদ পানকারী, পরিবেশনকারী, প্রস্তুতকারী, বিক্রেতা, ক্রেতা, বহনকারী এবং এর মূল্য ভোগকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৫৭১৬)

তাই মদ উৎপাদন, বিক্রি বা পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে এসব কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত বলে ইসলামী ফিকহের আলোকে উল্লেখ করা হয়েছে।

হারাম উপার্জন হয়ে গেলে করণীয়
মাদকের ব্যবসা বা অন্য কোনো হারাম উপায়ে উপার্জিত অর্থ ভোগ করা বৈধ নয়। কেউ এমন উপার্জন থেকে ফিরে আসতে চাইলে প্রথমে হারাম কাজ ছেড়ে হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা করার কথা আলেমরা উল্লেখ করেছেন।

এ ছাড়া হারাম অর্থের বিষয়ে তওবা করে তা নিজের ভোগে না রেখে দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দিয়ে দেওয়ার কথা ফিকহের গ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ, চাকরি বা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে করণীয় জানতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করে অভিজ্ঞ আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন: