সকাল-সন্ধ্যা যে আমল করলে রিজিকের বরকত বাড়ে
রিজিক, সম্পদ ও জীবনে বরকত লাভের প্রত্যাশা সবারই থাকে। তবে ইসলামে শুধু পার্থিব চেষ্টা নয়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তাঁর ওপর ভরসা রাখার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে হজরত নুহ (আ.)-এর ঘটনায় ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও রিজিক বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
‘আর বলেছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা।’ (সুরা নুহ: ১০-১২)
এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা তাঁর রহমত ও নেয়ামত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও নিয়মিত ইস্তিগফার করতেন। হাদিসে এসেছে, তিনি প্রতি ফরজ নামাজের পর তিনবার ইস্তিগফার পাঠ করতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
তাই প্রতি ফরজ নামাজের পর তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়া যেতে পারে। এর অর্থ—‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
এ ছাড়া সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইস্তিগফার পড়ার কথাও হাদিসে এসেছে। সাইয়েদুল ইস্তিগফার অর্থ ‘শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার’। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে এটি পাঠ করে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পাঠ করে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, সেও জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সহিহ বুখারি)
সাইয়েদুল ইস্তিগফার
اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ লাকা বিজাম্বি, ফাগফিরলি, ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার রব। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে করা প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমাকে যে নেয়ামত দিয়েছ, তা আমি স্বীকার করছি। আর আমার গোনাহও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারণ তুমি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
সুতরাং রিজিক ও জীবনে বরকতের আশায় আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করার পাশাপাশি হালাল উপায়ে রিজিক অর্জনের চেষ্টা করাও জরুরি। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিয়মিত ইস্তিগফার ও অন্যান্য নেক আমল করা একজন মুমিনের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: