• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

কেন সূরা তাওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ নেই? জানুন ইতিহাস

প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৪:৪৮, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ

পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সূরার মধ্যে ১১৩টি সূরার শুরুতেই রয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। তবে ব্যতিক্রম সূরা আত-তাওবা। কোরআনের এই সূরাটি শুরু হয়েছে বিসমিল্লাহ ছাড়া। ইসলামের ইতিহাস ও তাফসিরের আলোচনায় এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

সূরা তাওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ নেই কেন?
সূরা আত-তাওবার শুরুতে মুশরিকদের সঙ্গে কিছু চুক্তি থেকে অব্যাহতি এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা ঘোষণা করা হয়েছে। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এর মধ্যে আল্লাহর রহমত ও দয়ার প্রকাশ রয়েছে। এ কারণে মুফাসসিররা সূরাটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে বিসমিল্লাহ না থাকার বিভিন্ন হিকমতের সম্পর্ক উল্লেখ করেছেন।

তবে এ বিষয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা রয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা অনুযায়ী, সূরা আনফাল ও সূরা তাওবার বিষয়বস্তুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সূরার মাঝখানে বিসমিল্লাহ লেখার নির্দেশ না দেওয়ায় সেখানে বিসমিল্লাহ লেখা হয়নি।

অর্থাৎ, সূরা তাওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকার বিষয়ে মূল বিষয় হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কোরআনের লিখিত সংকলনে এ সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা হয়নি।

তাবুক অভিযানে তিন সাহাবির অনুতাপ
সূরা তাওবার সঙ্গে ইসলামের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ঘটনাও জড়িয়ে আছে। ঘটনাটি তাবুক অভিযানের সময়কার। সেই অভিযানে তিন সাহাবি, কাব ইবনে মালিক, মুরারাহ ইবনে রাবিয়া এবং হিলাল ইবনে উমাইয়া যেতে পারেননি।

তারা মুনাফিক ছিলেন না। নিজেদের কিছু পরিস্থিতির কারণে তারা অভিযানে অংশ নিতে পারেননি।  রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবুক থেকে মদিনায় ফিরে আসার পর তারা কোনো মিথ্যা অজুহাত না দেখিয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করেন। এরপর তাদের সঙ্গে সামাজিকভাবে সম্পর্ক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ৫০ দিন তারা কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে কাটান। তারা গভীর অনুশোচনায় আল্লাহর কাছে তওবা করতে থাকেন।

৫০ দিনের পর কবুল হয় তওবা
এই কঠিন সময়ের পর আল্লাহ তায়ালা তাদের তওবা কবুল করেন। সূরা আত-তাওবার ১১৮ নম্বর আয়াতে তাদের অবস্থা ও তওবা কবুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়াতে বলা হয়েছে, পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের কাছে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তারা বুঝতে পেরেছিলেন, আল্লাহ ছাড়া তাদের কোনো আশ্রয় নেই। এরপর আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করে তাদের তওবা কবুল করেন। এই ঘটনা ইসলামে তওবা ও আল্লাহর রহমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।

সূরা তাওবার শিক্ষা
সূরা আত-তাওবার শুরুতে রয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা ও অব্যাহতির ঘোষণা। আবার একই সূরার মধ্যেই রয়েছে এমন মানুষের তওবা কবুলের ঘটনা, যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছিলেন।

এ কারণে সূরা তাওবা মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে, ভুল হয়ে গেলে তা অস্বীকার বা গোপন না করে আন্তরিকভাবে স্বীকার করা এবং আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত।

তিন সাহাবির ঘটনা আরও মনে করিয়ে দেয়, সত্যিকারের অনুতাপ ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মাধ্যমে মানুষ তাঁর রহমত লাভ করতে পারে। তাই সূরা তাওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকার বিষয়টির পাশাপাশি এর আয়াতগুলোতে থাকা তওবা, সততা ও আল্লাহর প্রতি ফিরে আসার শিক্ষাও মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত