জুমার দিনের যে আমল বাঁচাবে দাজ্জালের ফিতনা থেকে
প্রতিকী (এআই)
পৃথিবীতে আবির্ভূত হবে ভয়ংকর এক ফিতনা! যার প্রতারণায় বিভ্রান্ত হবে অসংখ্য মানুষ। নাম তার দাজ্জাল! কিন্তু এই ভয়াবহ ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় কী? মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি উম্মতকে এমন কোনো আমলের কথা জানিয়েছেন, যা দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার কারণ হবে? পবিত্র কোরআনের একটি সূরার কয়েকটি আয়াতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেই নির্দেশনা।
ইসলামে জুমার দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে রয়েছে নানা ফজিলতপূর্ণ আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো পবিত্র কোরআনের সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। তবে এই সূরার গুরুত্ব শুধু জুমার দিনের আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দাজ্জালের ভয়াবহ ফিতনা থেকে সুরক্ষার বিষয়েও হাদিসে এসেছে বিশেষ নির্দেশনা।
হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষিত থাকবে। [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৯]
কিন্তু শুধু প্রথম ১০ আয়াতই নয়, সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত সম্পর্কেও হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়। এ কারণে সূরাটির প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার পাশাপাশি শেষ ১০ আয়াতের বর্ণনাটিও জানা গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসের এসব নির্দেশনা মুসলমানদের দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
দাজ্জালের ফিতনা কতটা ভয়াবহ হবে, তা বোঝা যায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সতর্কবাণী থেকে। সহিহ মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি দাজ্জালের সাক্ষাৎ পাবে, সে যেন তার সামনে সূরা কাহাফের শুরুর আয়াতগুলো পাঠ করে।
তাই জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি এর প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে কোরআনের অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামের শিক্ষা হলো, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ফিতনাগুলোর একটি থেকে বাঁচতে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা জানা এবং যথাসাধ্য আমল করা। তাই সূরা কাহাফের আয়াতগুলো শেখা ও বোঝার মাধ্যমে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণকর।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: