• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

কুরআনে যে গাছকে বলা হয়েছে ‘বরকতময়’, সেটিই কেন ধ্বংস করছে ইসরাইল?

প্রকাশিত: ১৪:২৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৪:৪৩, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ

কোরআনে যে গাছকে বলা হয়েছে ‘বরকতময়’, সেই জয়তুন গাছই কেন উপড়ে ফেলছে ইসরাইল? প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফিলিস্তিনিদের জীবিকা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই গাছগুলোর কী অপরাধ? কেন বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী জয়তুন গাছ? আর কেন ফসল তোলার মৌসুমের ঠিক আগেই এমন ধ্বংসযজ্ঞ? ফিলিস্তিনের মাটিতে জয়তুন গাছ ধ্বংসের এই ঘটনায় শুধু কৃষকের আয়ই নয়, উঠে আসছে তাদের শেকড়, ইতিহাস ও অস্তিত্বের প্রশ্নও।

পবিত্র কোরআনে যে গাছের কথা একাধিকবার এসেছে, সেটি হলো জয়তুন বা জলপাই গাছ। কোরআনে একটি জয়তুন গাছকে ‘বরকতময়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী ঐতিহ্যেও জয়তুন ও এর তেলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আর ফিলিস্তিনিদের কাছে এই গাছ শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়; বরং জীবিকা, ঐতিহ্য ও প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কিন্তু সেই জয়তুন গাছই এখন ইসরায়েলি বুলডোজারের নিচে উপড়ে ফেলা হচ্ছে। দখলকৃত পশ্চিম তীরের আররাবা এলাকায় সাম্প্রতিক এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনি কৃষকরা।

পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নূরের ৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা একটি ‘বরকতময়’ জয়তুন গাছের কথা উল্লেখ করেছেন। আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যে বরকতময় বৃক্ষ জয়তুন।’ এছাড়া হাদিসেও জয়তুনের তেল ব্যবহার ও তা থেকে উপকৃত হওয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ভারী বুলডোজার দিয়ে সারি সারি জয়তুন গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। উপড়ে ফেলা কিছু গাছের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েক সপ্তাহ পরই শুরু হওয়ার কথা ছিল জয়তুন সংগ্রহের মৌসুম। এর আগেই বাগান ধ্বংস হওয়ায় অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি পরিবার তাদের আয়ের বড় একটি উৎস হারানোর আশঙ্কায় পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাছাকাছি এলাকায় কয়েক মাস আগে ইসরাইলি বাহিনীর একটি সামরিক ক্যাম্প আবার চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি এমেক দোতান নামে একটি নতুন বসতি স্থাপনের কথাও জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, ওই বসতি সম্প্রসারণ এবং চলাচলের রাস্তা তৈরির জন্যই জয়তুন বাগানগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে আররাবা ও ইয়াবাদ শহরের সংযোগ সড়কের দুই পাশে প্রায় ৫০ একর জমির গাছ পরিষ্কার করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, এটি কাঠামোগত পরিকল্পনার অংশ। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আগে থেকেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং আপত্তি জানানোর সুযোগও ছিল।

তবে ইসরাইলি বাহিনীর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। তাদের কাছে জয়তুন গাছ শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়। এসব গাছের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের পারিবারিক ইতিহাস, কৃষি ঐতিহ্য এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা জীবনযাপন।

একটি জয়তুন গাছ বড় হতে কয়েক দশক সময় লাগে। তাই একটি পুরোনো গাছ উপড়ে ফেলা মানে শুধু একটি ফসলের গাছ ধ্বংস করা নয়, কৃষকের দীর্ঘদিনের শ্রম ও ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যাওয়া।

কোরআনে যে জয়তুন গাছকে ‘বরকতময়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিলিস্তিনের মাটিতে সেই গাছ আজ তাদের জীবন, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আর সেই গাছ যখন বুলডোজারের নিচে উপড়ে পড়ে, তখন তার সঙ্গে যেন ভেঙে পড়ে বহু বছরের স্মৃতি, শ্রম আর একটি পরিবারের স্বপ্নও।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত