• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা, অপ্রতিমের হয়ে চাইলেন ক্ষমা

প্রকাশিত: ১৬:৩১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা, অপ্রতিমের হয়ে চাইলেন ক্ষমা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছেলে অপ্রতিমের প্রথম জানাজার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অপ্রতিম আপনাদের স্নেহ-ভালোবাসায় বেড়ে উঠেছে। সে যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে বক্তব্য দেওয়ার সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা। বাবার কান্না দেখে উপস্থিত মুসল্লিদের অনেককেও চোখ মুছতে দেখা যায়।

পরে বেলা ১১টায় কোটবাড়ির গন্ধমতীতে অপ্রতিমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় হাজারো মানুষ সেখানে ভিড় করেন। ছোট্ট শিশুটির হত্যাকাণ্ডে অনেককে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়। তারা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশের তথ্যমতে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি নির্জন স্থানে স্থানীয় কয়েকজন অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তুহিন নামে একজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: