• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় দ্বন্দের জেরে প্রতিমা ভাঙচুর

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৪৮, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কুষ্টিয়ায় দ্বন্দের জেরে প্রতিমা ভাঙচুর

কুষ্টিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্মানাধীন প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় গণেশ, লক্ষ্মী ও দুর্গার বাহন সিংহের প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে কুমারখালী ৯নং পৌর ওয়ার্ড খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ভাবে কে বা কারা কি কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সূত্রে জানায়, ‘খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিলো। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেন কারিগর অধীর বিশ্বাস। কাজ শেষ করতে রাত প্রায় পৌনে ২টা বেজে যায়। এ সময় কারিগরের সঙ্গে আরও চারজন মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন। কাজ শেষে মন্দির সংলগ্ন একটি বাড়িতে তারা রাতের খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়রা প্রতিমা ভাঙচুর দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ওই মন্দির কমিটির সাধরণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস বলেন, গত রাতে প্রায় দুইটা পর্যন্ত প্রতিমা নির্মানের কাজ শেষ করে আমরা সবাই ঘুমাতে যাই। আজ সকাল ৬টার দিকে উঠে আমরা প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পাই। কে বা কারা ভেঙেছে সে বিষয়টি তদন্তে ঠিকই বেরিয়ে আসবে। তবে এই মন্দিরে প্রতিমা নির্মাণ কাজের সাথে এক গ্রুপ আছে অন্য গ্রুপ মন্দিরে আসছে না। এসব ছোট খাটো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইতোমধ্যে নেতৃবৃন্দ বসাবসি করলে শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান হয়নি। এভাবে প্রতিমা নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক মন্দিরেই নিজেদের মধ্যে একটা গ্রুপিং থাকে। আমার মনে হয় বিবাদমান এই গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় পক্ষেরও কেউ এই কাজটি করে গ্রুপিং পক্ষগণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্যও করে থাকতে পারে।

জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জয়দেব বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা নিজেদের মধ্যে পূর্ব থেকেই দ্বন্দের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাছাড়া বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এখানে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক কোন ইস্যু সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিমা ভাঙচুরের বাস্তবতা নেই। ঘটনা যেটাই হোক, আমরা দাবি করছি বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, শুক্রবার সকালে প্রতিমা ভাঙচুরের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এখানে কোন রকম রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিচ্যুতির কারণে এটা ঘটেনি। এটা সম্পূর্নরূপে নিজের মধ্যে অভ্যন্তরীন দ্বন্দের জেরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যারাই এই ঘটনার সাথে জড়িত থাক তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
 

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত