• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

কলেজের নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: ৪ শিক্ষার্থী আটকের পর পুলিশে সোপর্দ

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৫৮, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কলেজের নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: ৪ শিক্ষার্থী আটকের পর পুলিশে সোপর্দ

বরগুনার আমতলীতে কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক নির্যাতনের পর শুক্রবার রাতে ওই শিক্ষার্থীদের আমতলী থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ তাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার মহিষকাটা ইউনুস আলী খান ডিগ্রি কলেজে। প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজ প্রাঙ্গণ ও মসজিদের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে কলেজটিতে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি জসিম উদ্দিন এবং আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মো. মাহবুবুল আলম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর উপস্থিত কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

এর জেরে শুক্রবার দুপুরে কলেজ ফটকের সামনে থেকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও সুজা নামের এক নবীন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম, জালাল উদ্দীন ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরসহ যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর চুনাখালী মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় মো. আসিফ ও মো. তামিম নামের আরও দুই শিক্ষার্থীকে একইভাবে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, চার শিক্ষার্থীকে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

শিক্ষার্থী সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, “আমার ছেলেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মহিষকাটা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। পরে জানতে পারি, তাকে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই তাদের থানায় দেওয়া হচ্ছে।”

কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম ও ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে সাইফুল কাজী ও সুজাকে তুলে নিয়ে যান। তবে তাঁদের কোথায় নেওয়া হয়েছে বা পরে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

অন্যদিকে, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। তিনি বলেন, “নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ে এনেছিল ঠিকই, কিন্তু মারধর করা হয়নি। কার ইন্ধনে তারা নবীনবরণের মতো অনুষ্ঠানে এমন স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে, শুধু সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে থানায় সোপর্দ করা হয়।”

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, কলেজ ও মসজিদের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের তুলে নেওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা কোনো বাধা দেয়নি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “আটক চারজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার তাদের আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়েছে।”

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: