• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

কলেজছাত্র রোহান হত্যা: গ্রেফতার ৩, আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:২২, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কলেজছাত্র রোহান হত্যা: গ্রেফতার ৩, আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ

রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা গ্রেফতার ব্যক্তিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

এর আগে একই দিন ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা তিনজনকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারপুর এলাকার মো. দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩) এবং একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সমেসপুর এলাকার মো. সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ (২৭)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন ৬ অক্টোবর তার পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

পরে ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দি ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর নিহতের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার জানান, রোহানের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ সুপার বলেন, জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা এবং পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোহানকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে বস্তাবন্দি করা হয়। পরে বস্তার সঙ্গে বালুভর্তি আরেকটি বস্তা বেঁধে মরদেহটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেখানো মতে, ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা এবং রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে শ্বাসরোধে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এসব আলামত জব্দ করেছে।

মীর মনির হোসেন বলেন, গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে ফিরোজ সরদার বাবু ও রিয়াজ সরদার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শরীফ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তাদের ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

তবে হত্যাকাণ্ডে অর্থের জোগানদাতা বা মূল পরিকল্পনাকারী কে, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত রোহানের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বলেন, “যারা গ্রেফতার হয়েছে, তারা চুক্তির বিনিময়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।”

এদিকে, শনিবার দুপুর ২টার দিকে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত রোহানের স্বজনদের পুকুর থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত লোকজন তাদের বাধা দেন। এ সময় উত্তেজিত নারী-পুরুষ রোহান হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: