• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

খাবারে বিষ মিশিয়ে ঘরের সবাইকে অচেতন, অতঃপর গ্রিল কেটে দুর্ধর্ষ চুরি!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২০:০৭, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
খাবারে বিষ মিশিয়ে ঘরের সবাইকে অচেতন, অতঃপর গ্রিল কেটে দুর্ধর্ষ চুরি!

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামে খাবার বা পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যকে অসুস্থ করে বাড়ির গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে সঞ্জয় সাহার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। চোরেরা বাড়ি থেকে সাড়ে চার ভরি সোনার গহনা ও নগদ দেড় লাখ টাকাসহ সাত লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

ব্রহ্মরাজপুর সাহাপাড়ার বাসিন্দা নিতাই সাহার (কবিরাজ) ছেলে সঞ্জয় ওরফে লিটন সাহা সাতক্ষীরা সার্কিট হাউস মোড়ের পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করেন।

সঞ্জয় সাহা জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার স্ত্রী মৌসা রানী সাহা ছোট ছেলে দীপ্ত সাহাকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে প্রাণ ডাক্তারের বাড়ির সামনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাড়িতে ফিরে আসার পর তিনিসহ তাঁর মা মনিকা সাহা এবং বড় মেয়ে পিউ সাহাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পিউ সাহা ডিবি গার্লস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরে তাঁরা স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক বিকাশের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন।

সঞ্জয় সাহা জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তাঁরা খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার সকালে উঠে দেখতে পান, বসতঘরের পেছনের গ্রিল কাটা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। বাড়ির সামনের বারান্দার গ্রিলও কাটা দেখতে পান তাঁরা।

পরে ঘরের শোকেসের ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। সেখান থেকে তিনটি সোনার চেইন, দুই জোড়া সোনার কানের দুল, এক জোড়া শাখা বাঁধানো, এক জোড়া কানপাশা, দুটি সোনার আংটি, সোনার চেইনের দুটি লকেট, একটি মঙ্গলসূত্র এবং নগদ দেড় লাখ টাকা চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি। চুরি যাওয়া সোনার গহনা ও নগদ টাকা মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ সাত লাখ টাকার বেশি বলে দাবি তাঁর।

সঞ্জয় সাহার ধারণা, রান্নাঘরের বারান্দায় রাখা পানির ফিল্টার কিংবা রান্নাঘরে থাকা খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়ে থাকতে পারে। সেই পানি বা খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ার সুযোগে চোরের দল বাড়ির পেছনের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। পরে শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে সোনার গহনা ও টাকা নিয়ে সামনের বারান্দার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।

ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল থেকে ভাত ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: