• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার: একাধিক জুয়া সাইটের এজেন্ট গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১৪:০৬, ১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার: একাধিক জুয়া সাইটের এজেন্ট গ্রেফতার

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে স্নিগ্ধ সিকদার (৩১) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিক তদন্তে তিনি একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের পরিচালনাকারী ও এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সিআইডি জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার দিকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্নিগ্ধ সিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার বালিয়াট গ্রামের বাসিন্দা।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়া সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল বলেও জানায় সংস্থাটি।

তদন্তে সিআইডি আরও জানতে পারে, এসব কার্যক্রমে বিভিন্ন এজেন্ট ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। পরে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ কমিশন হিসেবে দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

সিআইডি জানায়, একই মামলায় গত ১৩ জুলাই সুমন রায় (২৮) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তাকে আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং ও অবৈধ জুয়া চক্রের বাংলাদেশ অংশের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সিআইডি।

তদন্তে আরও জানা যায়, পুরোনো সাইটের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে নতুন জুয়া সাইটের কাস্টমার সাপোর্ট পরিচালনার দায়িত্বও সুমন রায় পালন করতেন।

সিআইডির ভাষ্য, আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুমন রায় তার সহযোগী হিসেবে স্নিগ্ধ সিকদারের নাম উল্লেখ করেন। পরে তদন্তে স্নিগ্ধের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, একই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ৭ জুন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) ও মো. জুয়েল রানা (৩২)-কে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া (২৩) ও আবু জোবায়ের সানি (৩৬)কে গ্রেফতার করা হয়। ১২ জুলাই নড়াইলে অভিযান চালিয়ে মো. জসিম উদ্দিন (৩৩) ও সুমন রায়কে গ্রেফতার করা হয়।

এ ছাড়া ১৯ আগস্ট রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকা থেকে সৈয়দ জামান (২৭) ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাবলু মিয়া (২৮), মো. মনির হোসেন (৩০), নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) ও শামীম আল মামুন (২৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অবৈধ লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।

অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধও করেছে সংস্থাটি।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত