• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ায় আগামী কয়েক মাসে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা!

প্রকাশিত: ০০:১৩, ২ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
এশিয়ায় আগামী কয়েক মাসে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা!

এশিয়ায় আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইরান-গালফ অঞ্চলের সংঘাতের কারণে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থের ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে বিশেষভাবে তীব্র হতে পারে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা বলেন জয়শঙ্কর। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন এবং ইরান-গালফ অঞ্চলের সংঘাত বৈশ্বিক দক্ষিণের অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

বৈশ্বিক দক্ষিণ বলতে সাধারণত এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ওশেনিয়ার উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলোকে বোঝানো হয়। জয়শঙ্করের মতে, এসব দেশের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, কারণ একাধিক সংকট একই সময়ে তাদের ওপর প্রভাব ফেলছে।

জ্বালানি বাজারে বাড়ছে চাপ
জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো জ্বালানি সরবরাহ। তার মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এরই মধ্যে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে তেল সরবরাহকে ঘিরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, তেলের সরবরাহের নিরাপত্তা এবং সেই সরবরাহকে ঘিরে রাজনীতি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখার পরিবর্তে আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শস্য সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ
খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করতে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য রফতানিকারক দেশ তাদের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর পাশাপাশি সার সরবরাহের বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে জানান জয়শঙ্কর। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সার উৎপাদনকারী দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। সংঘাতের কারণে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

জ্বালানি-খাদ্য-সার সংকটের সঙ্গে অর্থের চাপ
জয়শঙ্কর বলেন, খাদ্য ও সারের সংকটের সঙ্গে যদি জ্বালানি সংকট এবং অর্থের প্রবাহে চাপ যুক্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

তার ব্যাখ্যা, কোনো অঞ্চলে সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ বা ‘সেফ হ্যাভেনে’ অর্থ সরিয়ে নেন। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে এসব দেশের ওপর একই সঙ্গে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থায়নের চাপ তৈরি হতে পারে।

এল নিনোর প্রভাব নিয়েও শঙ্কা
চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করেন জয়শঙ্কর। বিশেষ করে ‘সুপার এল নিনো’র মতো আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি খাদ্য উৎপাদনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এসব কারণ একসঙ্গে কাজ করলে আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখলে সংকট বাড়বে
জয়শঙ্কর মনে করেন, বৈশ্বিক সংকটের সময়ে কোনো দেশের নীতিনির্ধারণ শুধু নিজস্ব স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। একটি দেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব অন্য দেশগুলোর মৌলিক প্রয়োজন ও অর্থনীতিতে কীভাবে পড়তে পারে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সংঘাতের প্রভাবে এরই মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ভারতের আশপাশের অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইরান ও গালফ অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিশ্বের সব দেশের পরিস্থিতি অবশ্য একই হবে না বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তার মতে, কোনো কোনো দেশ নিজেদের নীতিগত স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন ধরে রাখতে পারবে, আবার অন্যদের জন্য তা কঠিন হতে পারে। কোন দেশ কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত