• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড: ১০ দিন পর হাসপাতালে থাকার পর ফের কারাগারে ক্রিস্টা পাইক

প্রকাশিত: ২৩:৫৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২৩:৫৭, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড: ১০ দিন পর হাসপাতালে থাকার পর ফের কারাগারে ক্রিস্টা পাইক

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শনিবার (১০ অক্টোবর) তার আইনজীবীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

৫০ বছর বয়সী পাইককে আবার সেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি গত ৩০ বছর ধরে বন্দি রয়েছেন। আইনজীবীদের বিবৃতি অনুযায়ী, কারাগারে ফিরলেও তিনি চিকিৎসাসেবা পেতে থাকবেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধ প্রয়োগ করে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তবে পরপর দুটি ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে যান। এ ঘটনায় তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে এবং তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জ্ঞান ফিরে পান পাইক। এরপর তিনি কথা বলতেও শুরু করেন। তার জ্ঞান ফিরে পাওয়া চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ, হাসপাতালের কর্মী ও আইনজীবীদের বিস্মিত করেছে। পাইককে ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে তাকেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দেওয়া বিবৃতিতে তার আইনজীবীরা বলেন, ‘এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যত্ন নেওয়ার জন্য জরুরি সেবাকর্মী ও চিকিৎসক দলের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।’

কারাগারে ফেরার পর পাইক কী ধরনের চিকিৎসা পাচ্ছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর আগে তার আইনজীবীরা বলেছিলেন, সুস্থ হয়ে উঠতে তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা কেন পরিকল্পনামতো সম্পন্ন হয়নি, সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সংশোধন বিভাগ। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার আদালতে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে টেনেসির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়রস বিচারককে জানান, রাজ্য কর্তৃপক্ষ পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আরেকটি চেষ্টা করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। ব্যর্থ ইনজেকশন প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ভবিষ্যতে রাজ্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে এসব প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাইক যখন ১৮ বছর বয়সী, তখন তিনি তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে নির্যাতন ও হত্যা করেন। স্বল্প আয়ের পরিবারের তরুণ-তরুণীদের জন্য আয়োজিত একটি কর্মপ্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের সঙ্গে স্লেমারের পরিচয় হয়েছিল।
অপরাধের সময় আইনগতভাবে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় শিপকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত প্রথম নারী ছিলেন পাইক। তার আইনজীবীরা কয়েক দশক ধরে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ও টেনেসির গভর্নর বিল লি- কেউই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত করেননি। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পাইকের সাজা পরিবর্তন করে প্যারোলের কোনো সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি আবারও জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর পাইক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীরা কয়েক দিন ধরে মনে করেছিলেন, তিনি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হারিয়েছেন এবং যেকোনো সময় তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হতে পারে।
অবশেষে মঙ্গলবার তার জ্ঞান ফিরে আসে এবং তিনি আবার কথা বলতে শুরু করেন। তার আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভির ভাষ্য অনুযায়ী, জ্ঞান ফেরার পর পাইকের প্রথম কথাগুলো ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনি কে?’

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাইকের আইনজীবীরা জানান, হাসপাতালে তার বিছানার সঙ্গে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ সময় তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন, তার দুই বাহুতে উল্লেখযোগ্য ফোলা দেখা দিয়েছিল এবং তিনি খাবার গিলতেও পারছিলেন না। পাইকের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এ ঘটনার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্পাইভি।

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার প্রভাব তার ওপর কতটা পড়বে, তা আমরা জানি না।’ তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, পাইক নিজেও এ পরিস্থিতিতে ‘ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত’ বোধ করছিলেন।

সূত্র: বিবিসি

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: