রিয়াদে কিং খালিদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: বেশ কয়েকজন আহত, বহু ফ্লাইট বাতিল
ছবি: বিবিসি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হামলার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাস নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিতের কথা জানায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, হামলার পর এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যায়।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালের সূত্র জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের ৪০১ নম্বর গেটে অবস্থান করা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমি ৪০১ নম্বর গেটে হামলার ঘটনা দেখেছি। নিজের চোখের সামনে আহত মানুষ দেখেছি। সবাই দৌড়াচ্ছিল।’
সৌদি আরবে অবস্থিত পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসগুলোও নিজ নিজ নাগরিকদের বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর ব্রিটিশ নাগরিকদের বিমানবন্দরটি নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত সেখানে না যেতে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছে।
হামলার পর বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান সংস্থা রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ফ্লাইট বাতিল করেছে কুয়েত এয়ারওয়েজও। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। ওই সূত্র জানায়, তাদের বলা হয়েছে, তারা একটি ‘গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি’ মোকাবিলা করছেন।
রিয়াদ বিমানবন্দরে সর্বশেষ হামলার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হচ্ছে। ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে হুতিরা।
এর এক দিন আগে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তার আগের দিন বিমানবন্দরে হুতিদের চালানো দুটি হামলায় একজন পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর আগে ৬ ও ৭ অক্টোবর সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরবের সমর্থন দেওয়ার প্রতিবাদে দেশটিতে হামলা চালানোর কথা বলে আসছে।
সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূলীয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা দ্রুতগতির অভিযানের মাধ্যমে দখল করে নেয় হুতিরা। এর মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে অবস্থিত মোখা বন্দরও রয়েছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই সংকীর্ণ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্য ও নৌপরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সমর্থকরা পরে জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের ওই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘নিরাপদ করেছে’। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে ২০১৫ সালে কয়েকটি আরব দেশকে নিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গঠন করা হয়।
বছরের পর বছর বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু এবং বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরির পর ২০২২ সালে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে অনানুষ্ঠানিক ওই যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়তে শুরু করে।
এরপর হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সমুদ্রপথে অবরোধ’ ঘোষণা করে এবং দেশটির বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। হুতিদের দাবি, সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং সানা বিমানবন্দরে চালানো একটি বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: