• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পেনসিলভানিয়ায় বাড়িতে ঢুকে বন্দুকধারীর হামলা, শিশুসহ নিহত ৯

প্রকাশিত: ০১:১২, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পেনসিলভানিয়ায় বাড়িতে ঢুকে বন্দুকধারীর হামলা, শিশুসহ নিহত ৯

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরিতে বন্দুকধারীর হামলায় শিশুসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার একটি বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর পর ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। পরে ঘটনাস্থলে সন্দেহভাজন হামলাকারীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় পুলিশ ও বিশেষ কৌশলগত দলের সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেললে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আরও সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে গুলির শব্দ শোনার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ওই বাড়িতে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের জানান, এক ব্যক্তিকে বন্দুক হাতে বাড়িটির বাইরে দেখা গিয়েছিল। পরে তিনি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বাড়ির সামনের রাস্তায় দুই নারীর মরদেহ দেখতে পায়। তাদের দুজনেরই গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল। এরপর পুলিশ সদস্য ও বিশেষ কৌশলগত দলের সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে আরও সাতজনের মরদেহের পাশাপাশি সন্দেহভাজন হামলাকারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, নিজের ছোড়া গুলিতেই ওই হামলাকারীর মৃত্যু হয়েছে।

ইরির পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ ঘটনাটিকে তার দেখা সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা যে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’ লোরাহ আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি মারা গেছেন। বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।’

তিনি নিহতদের পরিবার-পরিজন এবং এই ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানান। তার ভাষায়, ‘এখানে যে পরিমাণ প্রাণহানি ঘটেছে, তার গভীরতা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ নেই।’ শনিবারও (১০ অক্টোবর) হত্যাকাণ্ডের কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল কর্তৃপক্ষ। কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

ইরি শহর কর্তৃপক্ষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গেছে বলে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ মর্মান্তিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, এ খবর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, ইরির এই হত্যাকাণ্ড চলতি বছরের যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৯তম গণহত্যার ঘটনা। সংস্থাটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় চারজন বা তার বেশি মানুষ নিহত হলে সেটিকে গণহত্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ ধরনের অনেক ঘটনায় হামলাকারী নিজের পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা করেন। এ ধরনের ঘটনাকে ‘ফ্যামিলি অ্যানিহিলেশন’ বলা হয়। নির্দলীয় সংরক্ষণাগারটির তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০টিরও বেশি গণগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হন, তারা মারা যান বা বেঁচে থাকেন- উভয় ধরনের ঘটনাই এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বন্দুক হামলা একটি বড় সমস্যা। এ ধরনের ঘটনার পর দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হয়। তবে বছরের পর বছর ধরে এমন দাবি ওঠার পরও কংগ্রেসে এ বিষয়ে প্রত্যাশিত কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়নি।

সূত্র: গার্ডিয়ান

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: