দিল্লিতে বিরোধীদের বড় সমাবেশ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, বিজেপিও প্রস্তুত
ছবি: রয়টার্স
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর বড় সমাবেশ ও পদযাত্রা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করবেন বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এ সমাবেশে কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
রবিবার (১ নভেম্বর) সমাবেশস্থল রামলীলা ময়দান ঘিরে ব্যারিকেড, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন এবং লাঠি-ঢালসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যান চলাচলে পরিবর্তন আনারও ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ।
বিরোধী দলগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, মধ্য দিল্লি থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানে সমাবেশ করবেন তারা। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সমাবেশস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথে চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা সংস্থা এএনআইকে পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর বলেন, সমাবেশে যোগ দিতে মানুষ আসতে শুরু করেছেন। সমাবেশস্থল এবং পদযাত্রার পথে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত মাস থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে তারা।
গত সেপ্টেম্বরে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপকমিশনার অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। এরপর থেকেই কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ জোরালো হয়।

গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখ স্থানান্তরিত এবং ৩ কোটি মানুষের খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় মুসলিমসহ সংখ্যালঘু ভোটাররা তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভুলবশত বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।
বিজেপির অভিযোগ, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের বিক্ষোভ এবং বিরোধীদের প্রতি বাড়তে থাকা সমর্থন ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে সরকার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। দেশটির পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সূত্র: রয়টার্স
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: