ফের উত্তপ্ত মণিপুর: দুই কুকি যুবককে অপহরণের ৫ দিন পর মিললো মরদেহ
ভারতের মণিপুরে থামছে না জাতিগত সহিংসতা। এবার কাংপোকপি জেলায় পাঁচ দিন আগে অপহৃত দুই কুকি যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল। রবিবার (১ নভেম্বর) জেলার একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাজ্যটির চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
নিহত দুজন হলেন পাওগিনলাল হাংশিং (২০) ও টিঙ্গিনলুন চংলোই (২১)। গত ২৮ অক্টোবর থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, হেংবুং ও তাফৌ গ্রামের মধ্যবর্তী সড়কে যাতায়াতের সময় তাদের অপহরণ করা হয়েছিল।
তাদের সন্ধানে মণিপুর পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও আসাম রাইফেলসের যৌথ দল একাধিক অভিযান চালায়। রবিবারের অভিযানে মণিপুর পুলিশ, কোবরা, সিআরপিএফ, আসাম রাইফেলস ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) সদস্যরা অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, জাতীয় সড়ক-২-এর পূর্ব দিকে এসপি রোডসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসপি রোড সেনাপতি ও কাংপোকপি জেলাকে সংযুক্ত করা একটি পাহাড়ি সড়ক।
এদিকে, দুই যুবক নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৯ অক্টোবর থেকে কুকি-জো সম্প্রদায়ের একটি প্রভাবশালী সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি (কোটু) কাংপোকপি জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের বন্ধ ঘোষণা করে। তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর এক দিন আগে মণিপুরের সহিংসতাপ্রবণ নোনে জেলায় বন্দুকযুদ্ধে কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হন। এর পরদিনই দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই ও আদিবাসী কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত শুরুর পর থেকেই সহিংসতায় অস্থির মণিপুর। এরপর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি, জাতিগত বিভাজনের ভিত্তিতে পৃথক বসতি গড়ে ওঠা, প্রায় ৩৬৮ জনের মৃত্যু এবং ৬৬ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কার্যত রাজ্যটি জাতিগতভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: