• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতা এখন জনগণের আঙিনায়: কাদের গনি চৌধুরী

প্রকাশিত: ১১:০৯, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতা এখন জনগণের আঙিনায়: কাদের গনি চৌধুরী

বিএফইউজের মহাসচিব ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। ডেল্টাগ্রামের জনমত জরিপে সরকারের প্রতি ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন ও সন্তুষ্টির বিষয়টি এর প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বলতে আমার দ্বিধা নেই, তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে ব্যক্তিবৃত্ত থেকে ক্ষমতা এখন জনগণের আঙিনায়।’

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের সভাপতি নাছিম আহমদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরী, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ আলী খান, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম, জাকারিয়া আহমেদ, মাহবুবুর রহমান, আল মামুন সবুজ, নুর আলম, মোতাহার হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, শাহাবুদ্দীন, শাহ আলম শিমুল, শাহ আলম, শাহদাত হোসেন, ফরহাদ মৃধা, হারুন অর রশিদ, হামিদুল্লাহ খান, রাইসুল ইসলাম রাব্বি ও শামীম মাহমুদ প্রমুখ।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, যা কিছু আপনারা দেখছেন, তার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ বিএনপির অবদান। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কারণে এসব উন্নয়ন হয়েছে।’ দেশের মানুষ আগামীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রত্যাশা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণ তাদের এই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন কাদের গনি।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ডলার ও রুপির বিপরীতে সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে টাকা। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আমদানিকারকদের কাছে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হচ্ছে। বিনিময় হার আরও স্থিতিশীল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের আস্থাও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার দাবি, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানি।

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কারণে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থাকা এনপিএল অনুপাত ২০২৬ সালের জুনে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু অপ্রচলিত বাজারেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই দেশটির বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির গতি এবং আগস্টে একক মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধেও রেকর্ড সৃষ্টি করেছে তারেক রহমানের সরকার। তাঁর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে বিএনপি সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণের বাড়তি পরিশোধের চাপের মধ্যেও বর্তমান সরকার নিয়মিতভাবে এ দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দীর্ঘ সময় পর সংসদে প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন, আলোচনা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি দৃশ্যমান হওয়ার পাশাপাশি প্রথম অধিবেশনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় ফেরার ইঙ্গিত বহন করছে বলে মন্তব্য করেন কাদের গনি।

ক্ষমতা ব্যবহারের সংস্কৃতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সীমিত গাড়িবহর কিংবা তাঁর চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ না রাখার সিদ্ধান্ত হয়তো দেশের জিডিপি বাড়াবে না বা মূল্যস্ফীতি কমাবে না। তবে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর আলাদা তাৎপর্য রয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহুল্য যত কম প্রদর্শিত হয়, সাধারণ নাগরিকের প্রতি সম্মানের জায়গাটি তত দৃশ্যমান হয়। সরকারি গাড়ি কেনায় নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ সীমিত করা এবং সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগও একই বার্তা বহন করে।

প্রধানমন্ত্রী নিজের মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উল্লেখ করে কাদের গনি বলেন, এসব উদ্যোগ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বড় অংশজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার বিষয়টি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই প্রতিশ্রুতির অন্যতম দৃশ্যমান রূপ ‘ফ্যামিলি কার্ড’। পরীক্ষামূলকভাবে হাজার হাজার পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এখানে শুধু টাকার অঙ্কটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; সামাজিক নিরাপত্তাকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক, নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক করার প্রচেষ্টাটিই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের সব প্রয়োজন হয়তো এই অর্থে মিটবে না, তবে খাদ্য, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসার মতো কোনো একটি জরুরি খাতে এটি স্বস্তি দিতে পারে।

বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, একইভাবে ‘কৃষক কার্ড’-এর ধারণাটিও বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কৃষি এখনো দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষি উপকরণ, ঋণ ও সরকারি সেবা সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন জেলায় কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন কৃষিসেবা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কৃষিঋণ ও সংশ্লিষ্ট সুদ মওকুফের উদ্যোগ তাদের আর্থিক চাপ কমানোর প্রচেষ্টা। একজন প্রান্তিক কৃষকের কাছে ঋণের বোঝা কমা শুধু হিসাবের খাতায় কয়েকটি সংখ্যা মুছে যাওয়া নয়; কখনো কখনো সেটিই নতুন মৌসুমে আবার জমিতে নামার সাহস জোগায়।

এ ছাড়া ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং দেশজুড়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন কাদের গনি।

পবিত্র রমজান ও ঈদে কৃত্রিম সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার সংসদে রেকর্ড সংখ্যক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করেছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শিক্ষা খাতে পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তি, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগসহ ক্রীড়া ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতেও একই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হেলথ কার্ড’, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করার উদ্যোগ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সরকারের উন্নয়নভাবনায় পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রশ্নটিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন কাদের গনি। জলবায়ু বাজেট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, নদী-খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচি ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর ইঙ্গিত দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত