• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী ৬৫ জন উদ্ধার, বোটসহ আটক ১১ 

প্রকাশিত: ০০:৩৭, ২ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী ৬৫ জন উদ্ধার, বোটসহ আটক ১১ 

মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার ৬৫ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ (বানৌজা) খালিদ বিন ওয়ালিদ। একইসঙ্গে বোটসহ মানব পাচারকারী চক্রের ১১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সমুদ্রে নিয়মিত টহলকালে এ চক্রকে আটক করে সমুদ্রপ্রহরীরা।

সেন্টমার্টিন লাইট হাউজ থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামক একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় অপর একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। পরবর্তীকালে সমুদ্রে ভাসমান বোটটিকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলে বোটটির কয়েকজন ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি এফভি ক্রিস্টাল-১ কর্তৃক তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে অবহিত করা হয়। এ সময় সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায়  টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটিকে উদ্ধার করে। বোটটিতে পানি প্রবেশ করতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ভাসমান বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বোটটি থেকে উদ্ধারকৃত ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জন মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য চিহ্নিত কে তাদের আটক করা হয় এবং অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার। তাদের অধিকাংশই মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অপহৃত হয়ে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটক ছিল। পরবর্তীকালে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল। বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহণে নিয়োজিত ছিল। আটককৃত ব্যক্তি ও জব্দকৃত বোটটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ সফল অভিযানের মাধ্যমে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করার পাশাপাশি সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে বোটে পানি প্রবেশ করায় এতে অবস্থানরত যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে ৭৬ জনের জীবন রক্ষায় নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব, অপারেশনাল সক্ষমতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটেছে । 

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত সকল ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিভি/কেএস/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত