• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

‘প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও বিএনপিকে অজনপ্রিয় করে তোলার অতি সূক্ষ্ম চেষ্টা চলছে’

ব‍্যারিস্টার আবু সায়েম

প্রকাশিত: ২২:৪২, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২২:৪৩, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
‘প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও বিএনপিকে অজনপ্রিয় করে তোলার অতি সূক্ষ্ম চেষ্টা চলছে’

সুযোগটা কখনো কখনো আমরাই তৈরি করে দিচ্ছি। হয়তো বুঝতে পারছি না; অথবা বুঝেও ভ্রান্তিতে আছি। সরকার, দল এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃশ্যমান শুভাকাঙ্ক্ষীদের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছে এবং গর্হিত আচরণ করছে। এর ফলে প্রতিপক্ষ তাদের কোর্টে বল পেয়ে যাচ্ছে। তবে সমস্যার সূত্রপাত যে সবসময় আমাদের লোকেরাই ঘটায়, ঠিক তাও নয়। কিন্তু পরিস্থিতি এড়ানোর বিকল্প ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পন্থা আমরা অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করি না, কিংবা করতে জানি না—এটা নিশ্চিত। এতে প্রতিপক্ষ সুযোগ পেয়ে বসে।

শিক্ষকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা দেখুন। তাহলে তাকে যে বা যারা গ্রেপ্তার করল বা করাল, তাদের উদ্দেশ্য কী? অকারণে তারা কেন উগ্র পথে হাঁটল? আরও কিছু ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে, যার দরকার ছিল না।

দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যেহেতু বিএনপির, সেহেতু সহনশীলতা, সংযম ও প্রজ্ঞা আমরা বেশি দেখাব—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। তবে বিরোধী দল ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না, এটাও জনগণের অপছন্দ।

ফিরে আসি সেই সূক্ষ্ম কাজের কথায়। দেখবেন, যেসব ইস্যু সহজেই নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার কথা, কিংবা যেসব সমস্যা নিরসনে অংশীজনদের পরামর্শমূলক পন্থা অবলম্বন করলেই হয়—সেসব ক্ষেত্রেও ভ্লগার, ইউটিউবার, বিশ্লেষক থেকে শুরু করে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল নেতারা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। গণতন্ত্রে এটি গ্রহণযোগ্য আচরণ হতে পারে না।

রাড্ডার ঘটনা নিন্দনীয়। সরকার এবং বিএনপিও জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে। কে কোন দলের—তা তোয়াক্কা করেনি। প্রশংসা করতেই হবে। কিন্তু সালমান মুক্তাদির ও বিমানের ঘটনায় বিরোধী দলের বন্ধুরা কি প্রকৃত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন? অবশ্যই না। তারা স্রেফ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন, করে চলেছেন। তারা সালমানকে নিজেদের করে নিয়েছেন; অন্যদিকে মেজর সাহেবের ঔদ্ধত্য তাদের চোখেই পড়ছে না।

চাইলে কাহিনি আরও লম্বা করতে পারি। বাংলাদেশে কেউ হঠাৎ আসমান থেকে নামেনি। সবাই আমরা জানি, কে কতটুকু শুদ্ধ। জায়গা-জমি নিয়ে গ্যাঞ্জাম, দখল-জবরদখল, ভাঙচুর—এ দেশে নতুন কিছু নয়। বিমানবন্দরে ভোগান্তিও সব মিথ্যা নয়, যদিও অনেকেই বাড়িয়ে বলে। কিন্তু সমস্যার সমাধানে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। পদে পদে সরকারের খুঁত ধরে সরকারকে ল্যাং মারতে চাইলে দেশ এগোবে না, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানও ঠেকানো যাবে না। ভুলত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে, অন্যায়ের কঠিন প্রতিবাদও হতে হবে। কিন্তু দেশ অচল করে দেওয়ার গোমরাহি ভালো নয়।

গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনে সরকার ও বিরোধী দল পরস্পরের পরিপূরক। এখানে একে অন্যের সহযোগী হতে হয়, শত্রু নয়। কেউ কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা উপেক্ষা করে পথ চলতে পারে না, পারবেও না। আমি সবার কথা বলছি, কেবল অন্যদেরই সবক দিচ্ছি না। সবাইকে সংযত হতে হবে। সরকারি দল হিসেবে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথাবার্তা ও আচরণে প্রতিপক্ষের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান দেখাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু ঠিকই দেখাচ্ছেন।

আইন চলবে তার নিজের গতিতে, সবার জন্য—যেখানে প্রয়োজন, কঠোরতার সঙ্গে। আমাদের চলতে হবে মানবিক হৃদয় নিয়ে।

লেখক: ব‍্যারিস্টার আবু সায়েম

(বাংলাভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলাভিশন নেবে না।)
 

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: